বুধবার ০৯ সেপ্টেম্বর ২০২৬

২৪ ভাদ্র ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ

ফুটেজ থাকলেও মেলেনি ক্লু

নওয়াপাড়ায় ‘সুফলা ভবনে’ বোমা হামলার এক বছর

প্রতিনিধি, অভয়নগর

প্রকাশিত: ১৮:৩২, ৮ সেপ্টেম্বর ২০২৬

আপডেট: ১৮:৩৫, ৮ সেপ্টেম্বর ২০২৬

নওয়াপাড়ায় ‘সুফলা ভবনে’ বোমা হামলার এক বছর

দেশের অন্যতম শীর্ষ আমদানিকারক প্রতিষ্ঠান ‘নওয়াপাড়া গ্রুপ’-এর কার্যালয় সুফলা ভবনে বোমা হামলার এক বছর পার হলেও ঘটনার কোনো রহস্য উদঘাটন করতে পারেনি পুলিশ। স্পষ্ট সিসিটিভি ফুটেজ থাকা সত্ত্বেও হামলাকারী কিংবা পরিকল্পনাকারীদের কাউকেই শনাক্ত বা গ্রেপ্তার করতে না পারায় স্থানীয় ব্যবসায়ী মহলে তীব্র ক্ষোভ ও হতাশা বিরাজ করছে।

জানা যায়, ২৫ জুলাই ভোরে মুখে মাস্ক পরা একদল দুর্বৃত্ত সুফলা ভবনে বোমা হামলা চালিয়ে পালিয়ে যায়। ঘটনার ৯ দিন পর ২৭ জুলাই প্রতিষ্ঠানটির প্রশাসনিক কর্মকর্তা সাইফুল ইসলাম বাদী হয়ে অভয়নগর থানায় বিস্ফোরক দ্রব্য আইনে মামলা দায়ের করেন।

প্রথমে থানা পুলিশ ও পরবর্তীতে যশোর জেলা গোয়েন্দা পুলিশ (ডিবি)-এর কাছে তদন্তভার দেওয়া হলেও কোনো দৃশ্যমান অগ্রগতি হয়নি। বাধ্য হয়ে বাদীপক্ষ আদালতের শরণাপন্ন হলে ৩১ আগস্ট যশোরের অতিরিক্ত চিফ জুডিশিয়াল ম্যাজিস্ট্রেট আদালত মামলাটি পিবিআই কিংবা সিআইডির মতো অন্য কোনো সংস্থাকে দিয়ে তদন্তের জন্য জেলা পুলিশ সুপারকে নির্দেশ দেন।

অভিযোগ রয়েছে, আদালতের সুস্পষ্ট নির্দেশনা সত্ত্বেও প্রায় ১১ মাস ফাইল আটকে রাখা হয়। তদন্ত সংস্থা পরিবর্তনের বিষয়টি বাদীদেরও অবহিত করা হয়নি। সম্প্রতি সাংবাদিকদের অনুসন্ধানের পর নড়েচড়ে বসে প্রশাসন এবং গত ৫ সেপ্টেম্বর দীর্ঘসূত্রতা শেষে মামলার নথিপত্র যশোর সিআইডির সাব-ইনস্পেক্টর পলাশ কুমার রায়ের কাছে হস্তান্তর করা হয়।

ব্যবসায়ী নেতাদের দাবি, স্পষ্ট সিসিটিভি ফুটেজ থাকার পরও এক বছরে অপরাধীদের চিহ্নিত না করা অত্যন্ত উদ্বেগজনক। এই ঘটনার পর নওয়াপাড়ার আরও দুটি ব্যবসাপ্রতিষ্ঠানে একই কায়দায় হামলা চালানো হয়। নওয়াপাড়ার বাণিজ্যিক পরিবেশ ও নিরাপত্তার স্বার্থে সিআইডির অধীনে একটি দ্রুত, নিরপেক্ষ ও কার্যকর তদন্তের মাধ্যমে মূল পরিকল্পনাকারীদের আইনের আওতায় আনার দাবি জানিয়েছেন স্থানীয় ব্যবসায়ী ও শ্রমজীবী সংগঠনগুলো।

শেয়ার করুনঃ

শীর্ষ সংবাদ: