বুধবার ০৯ সেপ্টেম্বর ২০২৬

২৪ ভাদ্র ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ

ঘোড়াঘাটে আশ্রয়ন প্রকল্পের বিল তৃতীয় পক্ষকে ইজারার অভিযোগ

প্রতিনিধি, ঘোড়াঘাট (দিনাজপুর)

প্রকাশিত: ১৯:১৭, ৮ সেপ্টেম্বর ২০২৬

আপডেট: ১৯:১৮, ৮ সেপ্টেম্বর ২০২৬

ঘোড়াঘাটে আশ্রয়ন প্রকল্পের বিল তৃতীয় পক্ষকে ইজারার অভিযোগ

দিনাজপুরের ঘোড়াঘাট উপজেলার  বুলাকীপুর ইউনিয়নের ভেলাইন আয়মারা বিল আদর্শগ্রাম আশ্রয়ণ প্রকল্পের একটি সরকারি বিল নিয়মনীতি উপেক্ষা করে তৃতীয় পক্ষের কাছে প্রায় ১৫ লাখ টাকায় পাঁচ বছরের জন্য লিজ দেওয়ার অভিযোগ উঠেছে।

উপজেলা সহকারী কমিশনারের (ভূমি) কাছে করা অভিযোগে বলা হয়েছে, ভেলাইন মৌজার দশমিক ৮৭ একর আয়তনের বিলটি আশ্রয়ণ প্রকল্পের ৫৩টি উপকারভোগী পরিবারের সদস্যদের সমিতির নামে ডি.সি.আর. (ডুপ্লিকেট কার্বন রিসিপ্ট) মূলে মাছ চাষ জীবিকা নির্বাহের জন্য বরাদ্দ দেওয়া হয়েছিল। কিন্তু উপকারভোগীরা নিজেরা সমবায়ভিত্তিতে মাছ চাষ না করে ভেলাইন আদর্শগ্রাম সমবায় সমিতি লিমিটেডের মাধ্যমে আওয়ামী লীগ নেতা আশরাফুল আলমের কাছে প্রায় ১৫ লাখ টাকায় পাঁচ বছরের জন্য বিলটি লিজ দেওয়া হয়েছে। এতে প্রকৃত উপকারভোগীরা সরকারি সুবিধা থেকে বঞ্চিত হচ্ছে।

অভিযোগ সূত্রে জানা যায়, আশ্রয়ণ প্রকল্পের ৫৩টি পরিবারকে মাছ চাষের মাধ্যমে স্বাবলম্বী করার উদ্দেশ্যে বিলটি পাঁচ বছরের জন্য সমিতির নামে ডি.সি.আর. দেওয়া হয়। সমবায়ভিত্তিতে মাছ চাষ করে উপকারভোগীদের আর্থিক অবস্থার উন্নয়ন করাই ছিল এর মূল উদ্দেশ্য। তবে অভিযোগ রয়েছে, সেই উদ্দেশ্য বাস্তবায়ন না করে বিলটি তৃতীয় পক্ষের কাছে হস্তান্তর করা হয়েছে।

ঘটনায় আশ্রয়ণ প্রকল্পের এক বাসিন্দারা সহকারী কমিশনার (ভূমি) বরাবর লিখিত অভিযোগে উল্লেখ করেছেন-  সরকারি নিয়ম অনুযায়ী বিলটি ইজারা দেওয়া হলে সরকার উল্লেখযোগ্য রাজস্ব পেতে পারত। অন্যদিকে, উপকারভোগীরা নিজেরা মাছ চাষ করলে ৫৩টি পরিবারই সরাসরি লাভবান হতো।

একই সঙ্গে ডি.সি.আর.-এর শর্ত ভঙ্গ করে কর্তৃপক্ষের অনুমতি ছাড়া অন্য ব্যক্তির কাছে সাব-লিজ দেওয়া হয়েছে কি না, সেটিও তদন্তের দাবি জানানো হয়েছে অভিযোগে।

বিষয়ে ভেলাইন আদর্শগ্রাম সমবায় সমিতি লিমিটেডের সদস্য আমিন মাহফুজসহ কয়েকজন সদস্য বলেন, “আমাদের সদস্যদের মাছ চাষের জন্য প্রয়োজনীয় অর্থ না থাকায় আশরাফুলের সঙ্গে শেয়ারে মাছ চাষ করছি। মাছ চাষের মুনাফা প্রতিবছর সমিতির সদস্যদের মধ্যে সমভাবে বণ্টন করে দেওয়া হয়।তবে গত কয়েক বছর ধরে আশরাফুলের মাধ্যমে মাছ চাষ করা হচ্ছে বলেও তারা স্বীকার করেন।

অভিযোগের বিষয়ে মাছচাষি আশরাফুল আলম বলেন, তিনি বিলটি লিজ নেননি। আশ্রয়ণ প্রকল্পের সমিতির সদস্যরাই বিলটির দেখাশোনা মাছ চাষের কার্যক্রম পরিচালনা করছেন। তিনি শুধু মাছের পোনা খাদ্য দিয়ে তাদের সহযোগিতা করছেন। তার বিরুদ্ধে বিল লিজ নেওয়ার অভিযোগ সঠিক নয় বলেও দাবি করেন তিনি।

বিষয়ে ঘোড়াঘাট উপজেলা সহকারী কমিশনার (ভূমি) আব্দুল আল মামুন কাওছার শেখ বলেন, আশ্রয়ণ প্রকল্পের উপকারভোগীদের স্বাবলম্বী করার উদ্দেশ্যেই সরকারি খাস বিল বরাদ্দ দেওয়া হয়েছে। ইজারার শর্ত ভঙ্গ করে কর্তৃপক্ষের অনুমতি ছাড়া তৃতীয় পক্ষের কাছে সাব-লিজ দেওয়া সম্পূর্ণ অবৈধ শাস্তিযোগ্য অপরাধ। সরকারি নিয়ম অনুযায়ী কোনো ব্যক্তি বা সংগঠন কর্তৃপক্ষের অনুমতি ছাড়া ইজারাকৃত সরকারি সম্পত্তি অন্যের কাছে সাব-লিজ দিতে পারে না।

 

শেয়ার করুনঃ

শীর্ষ সংবাদ: