ঢাকার আশুলিয়ার জামগড়া এলাকায় স্বামী, স্ত্রী ও তাদের শিশু সন্তানকে হত্যার রহস্য উদ্ঘাটন করেছে পুলিশ ব্যুরো অব ইনভেস্টিগেশন (পিবিআই)। পরকীয়া-সংক্রান্ত জটিল পারিবারিক বিরোধের জেরে এ হত্যাকাণ্ড ঘটেছে বলে জানিয়েছে পিবিআই। এ ঘটনায় মামলার মূল আসামিকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে।
মঙ্গলবার (৮ সেপ্টেম্বর) দুপুরে ঢাকা জেলা পিবিআইয়ের উপপরিদর্শক (এসআই) আনিসুর রহমান বাপ্পী অভিযান চালিয়ে ওই ব্যক্তিকে গ্রেপ্তারের বিষয়টি নিশ্চিত করেন। তিনি জানান, সম্পূর্ণ ক্লুলেস (সূত্রবিহীন) এ ঘটনার পর থেকেই পিবিআই ছায়া তদন্ত শুরু করে। তথ্যপ্রযুক্তির সহায়তায় মূল আসামিকে শনাক্ত করে আইনের আওতায় আনা হয়েছে। তার কাছ থেকে হত্যাকাণ্ডে ব্যবহৃত গুরুত্বপূর্ণ আলামতও উদ্ধার করা হয়। তিনি বলেন, তদন্তের কৌশলগত স্বার্থে আসামির নাম-পরিচয় আপাতত প্রকাশ করা হচ্ছে না। তদন্ত কার্যক্রম পুরোপুরি শেষ হলে সংবাদ সম্মেলনের মাধ্যমে বিস্তারিত তথ্য ও হত্যাকাণ্ডের সুনির্দিষ্ট কারণ জানানো হবে।
নিহতরা হলেন, দিনাজপুরের নবাবগঞ্জ থানার বড়পুকুরিয়া গ্রামের আতিয়ার রহমানের মেয়ে নাজমা খাতুন (৩৯), তাঁর স্বামী আলমগীর কবির (৪৫) ও তাঁদের শিশু সন্তান। নাজমা স্থানীয় একটি তৈরি পোশাক কারখানায় কাজ করতেন। তাঁর স্বামী আলমগীর কবির এলাকায় পান-সিগারেট বিক্রি করে জীবিকা নির্বাহ করতেন। তদন্ত-সংশ্লিষ্ট সূত্রে জানা গেছে, গত ১ সেপ্টেম্বর বিকেলে কারখানা ছুটির পর নাজমা খাতুন ও তাঁর স্বামী বাসায় ফেরেন। পারিবারিক সম্পর্কের টানাপোড়েন ও পরকীয়া-সংক্রান্ত বিরোধের জেরে আলমগীর কবির অভিযুক্ত ব্যক্তিকে নিজ বাসায় ডেকে আনেন। সেখানে কথা-কাটাকাটি ও হাতাহাতির একপর্যায়ে অভিযুক্ত ব্যক্তি আলমগীর, তাঁর স্ত্রী ও শিশুসন্তানকে হত্যা করে বাইরে থেকে ঘরে তালা ঝুলিয়ে পালিয়ে যান।
গত ৫ সেপ্টেম্বর রাতে জামগড়ার রূপায়ণ মাঠসংলগ্ন হযরত আলীর বাড়ির দ্বিতীয় তলার একটি তালাবদ্ধ কক্ষ থেকে তীব্র দুর্গন্ধ ছড়ালে স্থানীয় বাসিন্দারা জাতীয় জরুরি সেবা ৯৯৯-এ ফোন করেন। খবর পেয়ে আশুলিয়া থানা পুলিশ ঘটনাস্থলে গিয়ে তালা ভেঙে তিনজনের অর্ধগলিত মরদেহ উদ্ধার করে। পরে মরদেহগুলো ময়নাতদন্তের জন্য মর্গে পাঠানো হয়।
এ ঘটনায় নিহত নাজমার বোন শাপলা বেগম আশুলিয়া থানায় অজ্ঞাতনামা ব্যক্তিদের আসামি করে হত্যা মামলা করেন। মামলার তদন্তে নেমে পিবিআই কয়েক দিনের মধ্যে হত্যাকাণ্ডের নেপথ্যের কারণ ও মূল আসামিকে শনাক্ত করে গ্রেপ্তার করেছে।


























