সোমবার ১৯ অক্টোবর ২০২৬

২ কার্তিক ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ

কক্সবাজারে রিসোর্টে আগুনে মৃতের সংখ্যা বেড়ে ১০ জনে দাঁড়িয়েছে

রানার প্র‌তি‌বেদক

প্রকাশিত: ০৯:০৪, ১৮ অক্টোবর ২০২৬

কক্সবাজারে রিসোর্টে আগুনে মৃতের সংখ্যা বেড়ে ১০ জনে দাঁড়িয়েছে

কক্সবাজারের উখিয়ার ইনানীতে টুপটুপ রেস্তোরাঁ অ্যান্ড রিসোর্টে অগ্নিকাণ্ডে প্রাণ হারালেন ১০ জন। এদের মধ্যে একই পরিবারের তিনজনসহ ৬ জন নিকটাত্মীয় রয়েছেন। আহত  হয়ে কক্সবাজার সদর হাসপাতালে চিকিৎসা নিচ্ছেন আরও সাতজন। এখনো নিখোঁজ রয়েছে কয়েকজন। ঘটনা তদন্তে পাঁচ সদস্যের কমিটি গঠন করা হয়েছে বলে জানিয়েছেন জেলা প্রশাসক এম এ মান্নান।

গতকাল সকাল ৭টার দিকে রিসোর্ট থেকে বিকট শব্দ শোনা যায়। এর কিছুক্ষণের মধ্যেই আগুন পুরো স্থাপনায় ছড়িয়ে পড়ে। খবর পেয়ে ফায়ার সার্ভিসের একাধিক ইউনিট ঘটনাস্থলে পৌঁছে আগুন নেভানো ও উদ্ধারকাজ শুরু করেন। দীর্ঘ চেষ্টার পর বেলা ১১টার দিকে আগুন পুরোপুরি নিয়ন্ত্রণে আনা হয়। উদ্ধারকাজে ফায়ার সার্ভিস, পুলিশ, বর্ডার গার্ড বাংলাদেশ (বিজিবি) ও এসআরবির সদস্যরা অংশ নেন।

অগ্নিকাণ্ডে নিহত ১০ জনের মধ্যে ছয়জন নিকটাত্মীয় হলেন জগন্নাথ বিশ্ববিদ্যালয়ের রসায়ন বিভাগের শিক্ষার্থী লায়লা জাহান নাবিলা, তার তিন বোন- ফারিয়া কবির (৩৩), ইসরাত জাহান মালিহা (৩০) ও ইস্ট ওয়েস্ট ইউনিভার্সিটির শিক্ষার্থী মিলিতা মেহেজাবিন আলভী (২৩), ৫ বছর বয়সী এক ভাগ্নে ফাইজান নূর। নূর নাবিলার বড় বোন ফারিয়ার ছেলে এবং ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের চীনা ভাষা ও সংস্কৃতি বিভাগের শিক্ষার্থী নাফিজ তেহামী। নিহত নাফিজ, নাবিলা, ফারিয়া, মালিহা ও আলভী পরস্পরের কাজিন। নাফিজের পরিবারের নয়জন সদস্য কক্সবাজার বেড়াতে গিয়ে রিসোর্টটিতে উঠেছিলেন। তাদের মধ্যে তিনজন বেঁচে গেছেন।

নিহতদের মধ্যে আরও আছেন নাসরিন আক্তার মুক্তা (২৯) ঢাকার আশুলিয়ার স্বপ্নবিলাস নিরিবিলি স্কুলের শিক্ষক ছিলেন। অন্য দুই নিহত পর্যটকের নাম জিহাদ হাওলাদার ও তারিকুল ইসলাম বলে জানিয়েছে ফায়ার সার্ভিস। তাদের বিস্তারিত পরিচয় এখনো জানা যায়নি। আরেকজনকে শনাক্ত করা যয়নি।

আহত হয়ে কক্সবাজার সদর হাসপাতালে ভর্তি হন সাতজন। এরা হলেন ঢাকা মহানগরীর পশ্চিম রামপুরার শিহাব সাদি (৩১), তার স্ত্রী নাফিজা (২৯), মিরপুর ১নং রোডের শিয়ালপাড়ার আবদুল মান্নান (৩৫), তার স্ত্রী ফাহমিদা (৩২), ঢাকার উত্তরার মুহাম্মদ মাসুদ (৩৩), তার স্ত্রী মেহেরুন্নেসা রোমি (৩০) ও ঢাকা দক্ষিণ কোনাসিতের আশিক (২৮)।

কক্সবাজার ফায়ার সার্ভিসের স্টেশন মাস্টার দোলন আচার্য্য জানান, গতকাল সকাল ৭টা ২৩ মিনিটে রিসোর্টটিতে আগুন লাগার খবর পান তারা। সকাল ৮টার দিকে ফায়ার সার্ভিসের সদস্যরা ঘটনাস্থলে পৌঁছে আগুন নেভানোর কাজ শুরু করেন। পরে সকাল সোয়া ১০টার দিকে আগুন পুরো নিয়ন্ত্রণে আসে। কক্সবাজারের অতিরিক্ত জেলা ম্যাজিস্ট্রেট (এডিএম) তাসনীম জাহান জানান, অগ্নিকাণ্ডের ঘটনায় ১০টি মরদেহ উদ্ধার হয়েছে। এডিএম আরও বলেন, ‘উদ্ধারকৃত মরদেহগুলোর সিংহভাগ অঙ্গার হওয়ায় কয়েকজনকে পরিচয় শনাক্তে ডিএনএ টেস্টের পর মরদেহ হস্তান্তরে সিদ্ধান্ত হয়েছে।’

কাঠের তৈরি ৩ তলা রিসোর্টটি দ্রুত পুড়ে ছাই হয়ে যায়। আগুন নিয়ন্ত্রণে আসার পর উদ্ধার অভিযান চালিয়ে হতাহত ব্যক্তিদের সন্ধান পান উদ্ধারকর্মীরা। প্রাথমিকভাবে রান্নাঘরের চুল্লি থেকে আগুনের সূত্রপাত হয়েছে বলে ধারণা করা হচ্ছে। আগুন লাগার পরপরই বাতাস ও রিসোর্টের শীতাতপনিয়ন্ত্রণ যন্ত্র (এসি) ও সিলিন্ডার বিস্ফোরিত হয়ে আগুন পুরো স্থাপনায় ছড়িয়ে পড়ে।

কক্সবাজারের ডিসি এম এ মান্নান বলেন, ‘অগ্নিকাণ্ডের শিকার রেস্তোরাঁ অ্যান্ড রিসোর্টটি প্রশাসনের অনুমতি ছাড়াই চলছিল। সরকারি জমিতে স্থাপনা করে অবৈধভাবে বাণিজ্য করলে তার বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেওয়া হয়। ব্যক্তিমালিকানাধীন জমিতে করা প্রতিষ্ঠান বিধায় প্রশাসন নজরে নেয়নি।’

অগ্নিকাণ্ডের ঘটনায় মামলা দায়েরের প্রক্রিয়া চলছে বলে জানিয়েছে পুলিশ। রিসোর্টটির রেস্টুরেন্ট ম্যানেজার মোহাম্মদ সুমনকে গ্রেফতার করেছে পুলিশ। তবে রিসোর্টের মালিক নিয়াজ মোরশেদ ও তানভীরের অবস্থান সম্পর্কে তাত্ক্ষণিকভাবে কিছু জানা যায়নি।

 

শেয়ার করুনঃ

শীর্ষ সংবাদ: