বুধবার ২২ জুলাই ২০২৬

৫ শ্রাবণ ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ

পণ্যে ক্ষতিকর অণুজীবের উপস্থিতি

কাজী, ফ্রেশ, ডেকো ও অলিলের ৮ পণ্য প্রত্যাহারের নির্দেশ

রানার প্রতিবেদক, ঢাকা অফিস

প্রকাশিত: ১৪:২৬, ২১ জুলাই ২০২৬

আপডেট: ১৫:৩৫, ২১ জুলাই ২০২৬

কাজী, ফ্রেশ, ডেকো ও অলিলের ৮ পণ্য প্রত্যাহারের নির্দেশ

ল্যাবরেটরি পরীক্ষায় বাংলাদেশ মান (বিডিএস) অনুযায়ী নির্ধারিত মানদণ্ড পূরণ করতে না পারায় চারটি প্রতিষ্ঠানের আটটি ভেরিয়েন্টের পণ্য বাজার থেকে প্রত্যাহারের নির্দেশ দিয়েছে বাংলাদেশ স্ট্যান্ডার্ডস অ্যান্ড টেস্টিং ইনস্টিটিউশন (বিএসটিআই)। এসব পণ্যে মাত্রাতিরিক্ত প্রিজারভেটিভ, মানবদেহের জন্য ক্ষতিকর অনুজীবের উপস্থিতি এবং মানদণ্ডের ব্যত্যয় পাওয়া গেছে। সোমবার (২০ জুলাই) এক সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে বিএসটিআই এ তথ্য জানিয়েছে।


বিএসটিআই জানিয়েছে, পরীক্ষায় অকৃতকার্য পণ্যগুলোর বিষয়ে সংশ্লিষ্ট প্রতিষ্ঠানগুলোকে ইতিমধ্যে প্রত্যাখ্যানপত্র দেওয়া হয়েছে। পণ্যের লাইসেন্স নবায়ন বা অনুমোদন না হওয়া পর্যন্ত এসব পণ্যের উৎপাদন, বিক্রি ও বিতরণ থেকে বিরত থাকার নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। জনস্বার্থ ও ভোক্তা সুরক্ষার কথা বিবেচনায় নিয়ে সংশ্লিষ্ট প্রতিষ্ঠানগুলোকে দেশের সব পরিবেশক, ডিলার, খুচরা বিক্রেতা ও বাজার থেকে এসব পণ্য অবিলম্বে প্রত্যাহারের নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। এ নির্দেশনা বাস্তবায়ন হচ্ছে কি না, তা নিবিড়ভাবে তদারকি করবে বিএসটিআই। নির্দেশনা অমান্য করলে প্রচলিত আইন ও বিধি অনুযায়ী সংশ্লিষ্ট প্রতিষ্ঠানের বিরুদ্ধে কঠোর আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হবে বলে জানিয়েছে সংস্থাটি।

বিজ্ঞপ্তিতে উল্লেখ করা হয়েছে, ফ্রেশ গার্ডেন অ্যাগ্রো রিসোর্সেসের আমের আচারে মাত্রাতিরিক্ত প্রিজারভেটিভ পাওয়া গেছে। কাজী ফুড ইন্ডাস্ট্রিজের বেলিসিমো ব্র্যান্ডের রোটোন্ডো হ্যাজেলনাট কোটেড চকলেট আইসক্রিমে টোটাল মিল্ক সলিড নন-ফ্যাট বাংলাদেশ মানের চেয়ে অতিরিক্ত মাত্রায় পাওয়া গেছে। এ ছাড়া অলিভ বাংলাদেশ লিমিটেডের লাবণ্য ব্র্যান্ডের মিল্ক স্কিন লোশন ও অ্যালোভেরা স্কিন লোশন, অলিভ ও লাবণ্য ব্র্যান্ডের ফেসওয়াশ মোরিঙ্গা+ম্যাচা ফোমিং মিল্ক ও তুলসী এবং লাবণ্য ব্র্যান্ডের অ্যালোভেরা ভ্যারিয়েন্টের শ্যাম্পুতে মানবদেহের জন্য ক্ষতিকর অণুজীবের উপস্থিতি পাওয়া গেছে। এ ছাড়া ডেকো ফুডস লিমিটেডের ডেকো ফ্রুট ফান্ডা ব্র্যান্ডের ম্যাংগো ও অরেঞ্জ ভ্যারিয়েন্টের সফট ড্রিংক পাউডারে বাংলাদেশ মানদণ্ডের চেয়ে ভিটামিন ‘সি’ কম পাওয়া গেছে।

বিএসটিআই মনে করে, জাতীয় মান অনুসারে পণ্যের গুণগত মান বজায় রাখা প্রতিটি লাইসেন্সধারী প্রতিষ্ঠানের আইনগত ও নৈতিক দায়িত্ব। কোনো প্রতিষ্ঠান এ দায়িত্ব পালনে ব্যর্থ হলে জনস্বার্থে এবং ভোক্তাদের অধিকার সংরক্ষণের স্বার্থে তাদের বিরুদ্ধে প্রয়োজনীয় প্রশাসনিক ও আইনগত ব্যবস্থা গ্রহণে বিএসটিআই বদ্ধপরিকর। এ বিষয়ে বিএসটিআইর মহাপরিচালক (সচিব) কাজী ইমদাদুল হক জানান, জনগণ যাতে মানসম্মত পণ্য ক্রয় করতে পারে, সে বিষয়ে বিএসটিআই প্রতিশ্রুতিবদ্ধ। কারণ মানসম্মত পণ্য পাওয়া জনগণের অধিকার। পণ্য কেনার আগে ক্রেতাদের বিএসটিআইর মানচিহ্ন, লাইসেন্স নম্বর, উৎপাদনের তারিখ, মেয়াদোত্তীর্ণের তারিখ এবং অন্যান্য প্রয়োজনীয় তথ্য যাচাই করা উচিত।

শেয়ার করুনঃ

শীর্ষ সংবাদ: