সোমবার ৩১ আগস্ট ২০২৬

১৫ ভাদ্র ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ

বিদেশি ফল আনারকলিতে যুবকের বাজিমাত

সংবাদদাতা, ভেড়ামারা (কুষ্টিয়া)

প্রকাশিত: ১২:৩২, ৩০ আগস্ট ২০২৬

বিদেশি ফল আনারকলিতে যুবকের বাজিমাত

একসময় বিদেশি ফল হিসেবে পরিচিত আনারকলি এখন দেশের বিভিন্ন এলাকায় বাণিজ্যিকভাবে চাষ হচ্ছে। পরীক্ষামূলক চাষে সফলতার পর কুষ্টিয়ার ভেড়ামারায় এক বিঘা জমিতে এ ফলের বাণিজ্যিক চাষ করেছেন কৃষি উদ্যোক্তা হালিম আহম্মেদ বাচ্চু। এতে এ পর্যন্ত তাঁর খরচ হয়েছে প্রায় দেড় লাখ টাকা। ফলন ও বাজারদর ঠিক থাকলে মৌসুম শেষে প্রায় ১০ লাখ টাকার ফল বিক্রির আশা করছেন তিনি।

কুষ্টিয়ার ভেড়ামারা উপজেলার চাঁদগ্রাম ইউনিয়নের কোদালিয়াপাড়া গ্রামের বাচ্চুর বাগানে গিয়ে দেখা যায়, লতানো গাছের সবুজ পাতার মাঝে ঝুলছে সবুজ রঙের আনারকলি ফল। দক্ষিণ আমেরিকার উষ্ণ অঞ্চলের এ ফলটি প্যাশন ফ্রুট বা ট্যাং ফল নামেও পরিচিত।

বাচ্চু জানান, চারা লাগানোর প্রায় আট মাস পর গাছে ফল আসতে শুরু করে। তবে গাছ সারাবছর ফল দেয়। রাসায়নিক সার ও কীটনাশক ছাড়াই শুধু জৈব সার ব্যবহার করে ফলটি চাষ করা যায় বলে জানান তিনি। তাঁর দাবি, জলবায়ু সহনশীল এ টক-মিষ্টি স্বাদের ফলের চাষে তুলনামূলক কম খরচ হয় এবং রোগবালাইও কম।

বাচ্চু বলেন, ‘আমি ছোটবেলা থেকেই কৃষিকাজের সঙ্গে জড়িত। আমার বাপ-দাদাও কৃষক ছিলেন। কৃষিই আমাদের পরিবারের একমাত্র উপার্জনের মাধ্যম। গত বছর ঝিনাইদহের মহেশপুরে স্টালিন ভাইয়ের বাগানে প্রথম এ ফলের চাষ দেখি। সেখান থেকে চারা সংগ্রহ করে আমার এক বিঘা জমিতে রোপণ করি।’
তিনি বলেন, ‘চারা লাগানোর কিছুদিন পরই নতুন পাতা গজাতে শুরু করে। গাছগুলো লাউগাছের মতো দ্রুত বড় হতে থাকে। পরে মাচা তৈরি করে দিই। মাচায় গাছ বাড়তে বাড়তে আট মাসের মধ্যে ফুল আসে এবং পরে ফল ধরে। এখন ফল পাকতে শুরু করেছে।’

এক বিঘা জমিতে আনারকলি বাগান করতে এ পর্যন্ত প্রায় দেড় লাখ টাকা খরচ হয়েছে জানিয়ে বাচ্চু বলেন, ‘ফলন ও বাজারদর ঠিক থাকলে মৌসুম শেষে প্রায় ১০ লাখ টাকার ফল বিক্রি করতে পারব বলে আশা করছি।’
বাগানে নতুন ফল দেখতে আশপাশের মানুষও আসছেন। বাগানের ফলন দেখে স্থানীয় কৃষকদের মধ্যেও এ ফল চাষে আগ্রহ তৈরি হচ্ছে বলে জানান বাচ্চু।

কৃষি বিভাগের সহযোগিতা প্রত্যাশা করে তিনি বলেন, ‘ক্ষুদ্র কৃষি উদ্যোক্তারা যদি কৃষি বিভাগের সহযোগিতা পান, তাহলে আমার মতো কৃষকরা আরও এগিয়ে যেতে পারবেন।’
ভেড়ামারা উপজেলার উপ-সহকারী কৃষি কর্মকর্তা সদরুল ইসলাম বলেন, ‘দেশের বিভিন্ন এলাকায় ফলটি আনারকলি, প্যাশন ফ্রুট বা ট্যাং ফল নামে পরিচিত। ভেড়ামারায় এর চাষ নতুন হলেও চলতি মৌসুমে উপজেলার অনেক জমিতে বাণিজ্যিকভাবে এ ফলের চাষ হচ্ছে।’
 

শেয়ার করুনঃ

শীর্ষ সংবাদ: