মাঠজুড়ে পাট কাটা ও জাগ দেওয়ার ব্যস্ততা। কোথাও আঁশ ছাড়ানো হচ্ছে, কোথাও হাটে উঠছে নতুন পাট। চলতি মৌসুমে নড়াইলে লক্ষ্যমাত্রার চেয়েও বেশি জমিতে পাট চাষ হয়েছে, আবহাওয়াও ছিল অনুকূলে। ফলে ফলন ভালো হওয়ার আশা করছেন কৃষকেরা। কিন্তু ফসল ঘরে তোলার সময়ই বাজারদর কমে যাওয়ায় সেই আশায় ভাটা পড়েছে। স্থানীয় ব্যবসায়ীদের হিসাবে, মাত্র দুই সপ্তাহের ব্যবধানে পাটের দাম মণপ্রতি এক থেকে দেড় হাজার টাকা কমেছে। বর্তমানে মাঝারি মানের পাট বিক্রি হচ্ছে ৩ হাজার থেকে সাড়ে ৩ হাজার টাকা মণ দরে।
নড়াইল কৃষি অফিসের তথ্য অনুযায়ী, চলতি মৌসুমে জেলায় ২৩ হাজার ৫০০ হেক্টর জমিতে পাট চাষের লক্ষ্যমাত্রা নির্ধারণ করা হয়েছিল। আবাদ হয়েছে ২৩ হাজার ৫১৭ হেক্টর জমিতে। অর্থাৎ লক্ষ্যমাত্রার চেয়ে ১৭ হেক্টর বেশি জমিতে পাট চাষ হয়েছে।
উপজেলাভিত্তিক হিসাবে সবচেয়ে বেশি পাটের আবাদ হয়েছে লোহাগড়ায়। সেখানে ১২ হাজার ১৬৫ হেক্টর জমিতে পাট চাষ হয়েছে। নড়াইল সদরে ৬ হাজার ৯৪২ হেক্টর এবং কালিয়ায় ৪ হাজার ৪১০ হেক্টর জমিতে পাটের আবাদ হয়েছে।
জেলার বিভিন্ন বিল ও মাঠে এখন পাট কাটা, জাগ দেওয়া ও আঁশ ছাড়ানোর কাজ চলছে। একই সঙ্গে নলদী বাজার, শিয়ারব হাট, মিঠাপুর, লাহুড়িয়া, বড়দিয়া, মাইজপাড়া, লোহাগড়া, কালিয়া ও তুলারামপুরসহ বিভিন্ন হাটে নতুন পাটের কেনাবেচা শুরু হয়েছে।
কৃষকেরা বলছেন, পাট চাষে জমি প্রস্তুত, বীজ, সার, শ্রমিক, নিড়ানি, কাটা, জাগ দেওয়া ও আঁশ ছাড়ানোর পেছনে উল্লেখযোগ্য অর্থ ব্যয় হয়। ভালো ফলন হলেও বাজারদর কমে যাওয়ায় সেই খরচ তুলে আনা নিয়ে এখন শঙ্কায় তাঁরা।
এড়েন্দা মোকামের ফড়িয়া সুজন ও মিরাজ ফকিরের দেওয়া তথ্য অনুযায়ী, দুই সপ্তাহ আগে যে দরে পাট কেনাবেচা হয়েছে, বর্তমানে তা মণপ্রতি এক থেকে দেড় হাজার টাকা কমেছে। এখন মাঝারি মানের পাট ৩ হাজার থেকে সাড়ে ৩ হাজার টাকা মণ দরে বিক্রি হচ্ছে।
নড়াইল সদর উপজেলার মুলিয়া গ্রামের কৃষক দীপক রায় বলেন, ‘এ বছর পাটের আবাদ ভালো হয়েছে। যদি পাটের বাজারদর ঠিক না থাকে, তাহলে আমাদের বাঁচার আর কোনো পথ নেই। সরকারের কাছে আবেদন, পাটের দাম সরকারিভাবে নির্ধারণ করা হোক।’
পাটের আঁশের দাম কমলেও পাটকাঠি বিক্রি করে কৃষকেরা কিছুটা বাড়তি আয় করছেন। জেলার বিভিন্ন হাটে পাটকাঠিরও কেনাবেচা চলছে।
কৃষক শহিদুল ইসলাম বলেন, রাজশাহী, খুলনা, বরিশাল ও বাগেরহাটসহ বিভিন্ন জেলা থেকে ব্যবসায়ীরা নড়াইলে পাটকাঠি কিনতে আসছেন। এসব পাটকাঠি পানবরজে ব্যবহার করা হয়।
ফলে পাটের আঁশের পাশাপাশি পাটকাঠিও কৃষকের জন্য বাড়তি আয়ের উৎস হয়ে উঠেছে। তবে পাটের প্রধান উৎপাদিত পণ্য আঁশের দাম কমে যাওয়ায় সামগ্রিক হিসাবে কৃষকের প্রত্যাশিত আয় কমে যাওয়ার আশঙ্কা রয়েছে।
নড়াইল জেলা কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তরের উপপরিচালক আরিফুর রহমান বলেন, ‘এ বছর আবহাওয়া অনুকূলে থাকায় এবং কৃষি বিভাগের পক্ষ থেকে সময়মতো উন্নতমানের বীজ, সার ও কারিগরি পরামর্শ দেওয়ায় জেলায় পাটের আবাদ ও ফলন ভালো হয়েছে।’
তিনি জানান, পাটের গুণগত মানোন্নয়নে কৃষকদের নিয়মিত পরামর্শ দেওয়া হচ্ছে।


























