সোমবার ২৪ আগস্ট ২০২৬

৭ ভাদ্র ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ

বিদ্যুৎহীন এক রাত

শত পরিবারে অনিশ্চয়তা

ফোরকান জামান, শার্শা (যশোর)

প্রকাশিত: ১২:২৭, ২৩ আগস্ট ২০২৬

আপডেট: ১৪:০১, ২৩ আগস্ট ২০২৬

শত পরিবারে অনিশ্চয়তা

এক রাতের বিদ্যুৎ বিপর্যয়ে কয়েক ঘণ্টার জন্য থেমে যায় ঘেরের এয়ারেটর। আর তাতেই কমতে থাকে পানিতে অক্সিজেনের মাত্রা। ভোরে ঘেরে গিয়ে খামারিরা দেখেন, পানির ওপর ভেসে উঠেছে হাজার হাজার মরা মাছ। শার্শার রায়পুর-বাহাদুরপুর ইউনিয়নের সোনামুখো বিলে এই ঘটনায় খামার মালিকদের দাবি, তাঁদের প্রায় সাড়ে ১৫ কোটি টাকার ক্ষতি হয়েছে।


ভুক্তভোগীরা জানান, শুক্রবার রাত আনুমানিক ১টার পর থেকে ঘের এলাকায় দীর্ঘ সময় বিদ্যুৎ সরবরাহ বন্ধ হয়ে যায়। বিদ্যুৎ না থাকায় যান্ত্রিক এয়ারেটরের মাধ্যমে পানিতে কৃত্রিম অক্সিজেন সরবরাহও বন্ধ হয়ে যায়। ফলে পানিতে স্বাভাবিক অক্সিজেনের মাত্রাও দ্রুত কমতে থাকে। রাত পেরিয়ে ভোর হওয়ার আগেই মাছ মরতে শুরু করে।


সোনামুখো বিলের ‘এ এফ মৎস্য খামার’ যৌথভাবে গড়ে তুলেছেন উদ্যোক্তা আলফাজুল হক ও ফারুক হোসেন। তাঁদের দাবি, খামারে উৎপাদিত পাবদাসহ বিভিন্ন প্রজাতির মাছ বাজারজাতের উপযোগী হয়ে উঠেছিল। হঠাৎ বিদ্যুৎ বিপর্যয়ে সেই মাছের বড় অংশ মারা যাওয়ায় এক রাতেই তাঁদের বড় ধরনের আর্থিক ক্ষতি হয়েছে।


আলফাজুল হক জানান, বাজারে বিক্রির উপযোগী মাছের খাদ্য কিনতে স্থানীয় ব্যবসায়ীদের কাছ থেকে প্রায় সাড়ে তিন কোটি টাকা বাকিতে নেওয়া হয়েছিল। মাছ বিক্রি করে সেই টাকা পরিশোধের পরিকল্পনা ছিল। কিন্তু হঠাৎ বিপর্যয়ে সেই পরিকল্পনা ভেস্তে গেছে।


তিনি বলেন, ‘বাজারে বিক্রির উপযোগী এসব মাছের খাদ্য কিনতে স্থানীয় ব্যবসায়ীদের কাছ থেকে প্রায় সাড়ে তিন কোটি টাকা বাকিতে নেওয়া হয়েছিল। এখন এক রাতের ঘটনায় এত বড় ক্ষতি হয়েছে। এই ঋণ কীভাবে পরিশোধ করব, তা নিয়ে আমরা দিশেহারা।’
আরেক খামারি ফারুক হোসেন বলেন, ‘আমাদের এই খামারের আয়ের ওপর প্রত্যক্ষ ও পরোক্ষভাবে প্রায় একশ পরিবার নির্ভরশীল। রাত ১টার পর থেকে বিদ্যুৎ না থাকায় অক্সিজেনের সংকট তৈরি হয়। এক রাতেই আমাদের সব শেষ হয়ে গেছে।’


খামার-সংশ্লিষ্টদের দাবি, এ খামারে উৎপাদিত মানসম্মত পাবদা মাছের একটি বড় অংশ আন্তর্জাতিক সরবরাহ চেইনের মাধ্যমে ভারতে রপ্তানি করা হতো। ফলে খামারের উৎপাদনের সঙ্গে স্থানীয় ব্যবসা-বাণিজ্যের পাশাপাশি বৈদেশিক মুদ্রা অর্জনের বিষয়টিও জড়িত ছিল।


কিন্তু হঠাৎ বিদ্যুৎ বিপর্যয়ে বিপুল পরিমাণ মাছ মারা যাওয়ায় সেই সরবরাহ ব্যবস্থাও বাধাগ্রস্ত হয়েছে বলে জানান সংশ্লিষ্টরা।


ক্ষতিগ্রস্ত উদ্যোক্তাদের অভিযোগ, মাছ মারা যাওয়ার পর এখন পর্যন্ত স্থানীয় উপজেলা প্রশাসন, মৎস্য অধিদপ্তর কিংবা বিদ্যুৎ বিভাগের কোনো কর্মকর্তা ঘটনাস্থল পরিদর্শন করেননি।
খামারিদের দাবি, দ্রুত ঘটনাস্থল পরিদর্শন করে ক্ষয়ক্ষতির সরকারি হিসাব তৈরি করতে হবে। একই সঙ্গে বিদ্যুৎ বিপর্যয়ের কারণ অনুসন্ধান, ক্ষতিগ্রস্তদের আর্থিক সহায়তা এবং সহজ শর্তে পুনর্বাসন ঋণের ব্যবস্থা করার দাবি জানিয়েছেন তাঁরা।
 

শেয়ার করুনঃ

শীর্ষ সংবাদ: