শীত আসার আগেই ঝিনাইদহের কোটচাঁদপুরের মাঠজুড়ে শিম ফুল ও কচি শিমে ভরে উঠেছে গাছ। আগাম জাতের শিম চাষ করে স্থানীয় চাহিদা মেটানোর পাশাপাশি দেশের বিভিন্ন স্থানে সরবরাহ করছেন কৃষকরা। মৌসুমের শুরুতে ভালো দাম পাওয়ায় এ আবাদে আগ্রহ বাড়ছে চাষিদের। উপজেলা কৃষি অফিসের তথ্য অনুযায়ী, চলতি মৌসুমে উপজেলায় ২৫৪ হেক্টর জমিতে আগাম গ্রীষ্মকালীন শিমের চাষ হয়েছে।
কোটচাঁদপুর উপজেলায় পাঁচটি ইউনিয়ন ও একটি পৌরসভা রয়েছে। উপজেলার বিভিন্ন এলাকায় সবজির আবাদ হলেও সবচেয়ে বেশি শিম চাষ হয় সাবদারপুর ইউনিয়নে। কৃষি অফিস সূত্রে জানা গেছে, চলতি মৌসুমে ২৫৪ হেক্টর জমিতে আগাম শিমের আবাদ হয়েছে, যা প্রায় ১ হাজার ৮৩০ বিঘার সমান।
সাবদারপুর ইউনিয়নের মানিকদিহি গ্রামের কৃষক আকিমুল ইসলাম বলেন, ‘এটি আগাম শিমের আবাদ। ফলে অন্যদের আগে শিম বাজারে তুলতে পারি। এ সময় বাজারে শিমের চাহিদা ও দাম দুটোই ভালো থাকে। তাই আমরা এ আবাদ করি।’
তিনি জানান, এক বিঘা জমি থেকে মৌসুমে ১০০ থেকে ১২০ মণ পর্যন্ত শিম উৎপাদন হয়। এতে এক বিঘা জমি থেকে ১ লাখ ২০ হাজার থেকে দেড় লাখ টাকা পর্যন্ত আয় করা সম্ভব হয়। গত বছর দুই বিঘা জমিতে শিম চাষ করেছিলেন তিনি। ভালো ফলন ও দাম পাওয়ায় এবার চার বিঘা জমিতে আবাদ করেছেন।
লক্ষ্মীকুণ্ড গ্রামের শিমচাষি ছামারুল ইসলাম, দেলোয়ার হোসেন ও সাইদুর রহমান বলেন, ‘প্রতি বছরের মতো এবারও ১৫ কাঠা জমিতে শিম চাষ করেছি। ইতোমধ্যে গাছে শিম ধরতে শুরু করেছে। কয়েক দিন ধরে বাজারেও বিক্রি করছি।’
তারা জানান, শিম তোলার প্রথম দিকে প্রতি কেজি ১২০ থেকে ১৫০ টাকা দরে বিক্রি করেছেন। পরে কয়েক দিন ধরে প্রতি কেজি ১২০ টাকা দরে বিক্রি হচ্ছে। এ দাম ধরে রাখতে পারলে প্রায় এক মাসে ১৫ কাঠা জমি থেকে প্রায় লাখ টাকা আয় করা সম্ভব হবে বলে আশা করছেন তারা।
উপজেলা কৃষি কর্মকর্তা কৃষিবিদ জাহিদ হোসেন বলেন, ‘চলতি মৌসুমে উপজেলায় ২৫৪ হেক্টর জমিতে আগাম গ্রীষ্মকালীন ইপসা-১ জাতের শিম চাষ হয়েছে। পাঁচটি ইউনিয়ন ও পৌরসভার মধ্যে সাবদারপুর ইউনিয়নে এ আবাদ সবচেয়ে বেশি।’
তিনি বলেন, ‘কোটচাঁদপুরের কৃষকরা সাধারণত এপ্রিল বা এপ্রিলের মাঝামাঝি সময়ে এ শিমের আবাদ করেন। এরপর প্রায় পাঁচ থেকে ছয় মাস পর্যন্ত শিম সংগ্রহ করা যায়। প্রতি বিঘায় ১০০ থেকে ১২০ মণ পর্যন্ত উৎপাদন হয়। আগাম গ্রীষ্মকালীন শিম হওয়ায় বাজারে ভালো দাম পাওয়া যায়। এতে কৃষকরা বিঘাপ্রতি প্রায় ১ লাখ থেকে ১ লাখ ২০ হাজার টাকা পর্যন্ত লাভ করেন।’
কৃষি কর্মকর্তা আরও বলেন, ‘সাবদারপুর ফুল, ফল ও সবজি চাষের জন্য সম্ভাবনাময় এলাকা। এখানে অসময়ে উচ্চমূল্যের বিভিন্ন সবজি চাষ হয়। স্থানীয় চাহিদা পূরণের পাশাপাশি এসব সবজি দেশের বিভিন্ন এলাকায় সরবরাহ করে কৃষকরা আয় করছেন। এ কারণে আগামীতে শিমের আবাদ আরও বাড়বে বলে আশা করছি।’


























