জাগরণী চক্র ফাউন্ডেশনের প্রতিষ্ঠাতা ও নির্বাহী পরিচালক আজাদুল কবির আরজু আর নেই। শনিবার দুপুরে (২৪ জানুয়ারি) তিনি শেষ নিঃশ^াস ত্যাগ করেন। তিনি বিভিন্ন বার্ধক্যজনিত রোগে দীর্ঘদিন ধরে অসুস্থ ছিলেন।
পারিবারিক সূত্র জানায়, শনিবার সকালের দিকে তিনি হঠাৎ করেই অসুস্থ হয়ে পড়েন। দ্রুত তাকে যশোর ২৫০ শয্যা জেনারেল হাসপাতালে নেওয়া হলে জরুরি বিভাগের চিকিৎসক তাকে মৃত ঘোষণা করেন। বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন জাগরণী চক্র ফাউন্ডেশন পরিচালক কাজী মাজেদ নওয়াজ। তার মৃত্যুতে জাগরণী চক্র ফাউন্ডেশনসহ বিভিন্ন সংগঠনের মাঝে শোকের ছায়া নেমে এসেছে।
আজাদুল কবির আরজু যশোর সদর উপজেলার এনায়েতপুর গ্রামে ১৯৫৩ সালের ২৮ আগস্ট জন্মগ্রহণ করেন। বাবা একেএম আমজাদ আলী, মা আনোয়ারা বেগম। গ্রামে জন্ম হলেও বাবার সরকারি চাকরির সুবাদে শহরেই তার বেড়ে ওঠা। শৈশব-কৈশোরেই তিনি স্বপ্ন বুনতে শিখেছেন। যশোর শহরে তারুণ্যের দিনগুলো কেটেছে যশোরের বিভিন্ন শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে। আবৃত্তি, অভিনয়, গল্প-কবিতা লেখা, দেয়ালপত্রিকা প্রকাশ-নানান সাংস্কৃতিক কর্মকাণ্ডে তারুণ্যেই গড়ে নিয়েছেন নিজের মনন-সত্ত্বাকে। পূর্ণপ্রাণ সেই সত্ত্বা পরিপূর্ণ হয়েছে স্নেহ, মায়া, মমতা, মানবিকতা, সহমর্মিতা-মানবপ্রেমে। সাংস্কৃতিক কর্মকাণ্ডের পাশাপাশি রাজনীতি সচেতন তরুণ আরজু ‘সুকান্ত’র কবিতার ‘আঠারো বছর বয়সে’ একটি স্বাধীন দেশের স্বপ্নে যোগ দিয়েছিলেন মুক্তিযুদ্ধে।
দেশমাতৃকাকে মুক্ত করার সেই রণাঙ্গন থেকে রাজাকারদের হাতে ধরা পড়েন তিনি। নির্মম অত্যাচারের পর রাজাকাররা তাকে তুলে দেয় পাকবাহিনীর হাতে। হানাদার বাহিনীর নির্যাতন সয়ে তার ঠাঁই হয় যশোর কারাগারে। ১৯৭১ সালের ৬ ডিসেম্বর যশোর মুক্ত হবার পর মুক্তি মেলে তার।
১৯৭৫ সালে আরজু কয়েকজন সমমনা বন্ধুকে নিয়ে প্রতিষ্ঠা করলেন জাগরণী চক্র। যশোর শহরে শুরু করলেন ব্যবহারিক বয়স্ক শিক্ষাকেন্দ্র। যার শিক্ষার্থী হলেন সমাজের সবচেয়ে অবহেলিত জনগোষ্ঠী। সেই শুরু থেকে পথচলার অর্ধশত বছর পার করেছে জাগরণী চক্র ফাউন্ডেশন। গত ৭ জানুয়ারি প্রতিষ্ঠানটি জাগরণের পঞ্চাশ বছর পূর্তি উদযাপন করেছে। সেই উদযাপনের পরই চিরবিদায় নিলেন আজাদুল কবির আরজু।


























