বুধবার ১৮ মার্চ ২০২৬

২ চৈত্র ১৪৩২ বঙ্গাব্দ

বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের জন্মদিন আজ

রানার প্রতিবেদক

প্রকাশিত: ০২:৪৫, ১৭ মার্চ ২০২৬

আপডেট: ০২:৪৭, ১৭ মার্চ ২০২৬

বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের জন্মদিন আজ

বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান (ফাইল ছবি)

বাংলাদেশের স্বাধীনতা সংগ্রামের অগ্রপুরুষ শেখ মুজিবুর রহমানের ১০৭তম জন্মদিন আজ (১৭ মার্চ)। তিনি ১৯২০ সালের ১৭ মার্চ তৎকালীন ফরিদপুর জেলার গোপালগঞ্জ মহকুমার টুঙ্গিপাড়া গ্রামে জন্মগ্রহণ করেন। বাংলাদেশের স্বাধীনতা ও নিজস্ব মানচিত্র অর্জনের পথে ধাপে ধাপে গুরুত্বপূর্ণ অবদান রেখেছেন তিনি।
বাবার নাম শেখ লুৎফর রহমান, আর মা সায়েরা খাতুন। চার বোন ও দুই ভাইয়ের মধ্যে শেখ মুজিবুর রহমান ছিলেন তৃতীয়। পরবর্তীতে ‘খোকা’ নামের এই শিশুটিই হয়ে ওঠেন নির্যাতিত-নিপীড়িত বাঙালির ত্রাতা ও মুক্তির দিশারি।

গোপালগঞ্জের মিশন স্কুলে অষ্টম শ্রেণিতে অধ্যয়নকালে, তৎকালীন ব্রিটিশবিরোধী আন্দোলনে যোগ দিয়ে প্রথমবারের মতো গ্রেফতার হয়ে কারাবরণ করেন শেখ মুজিবুর রহমান। এরপর থেকে শুরু হয় তার সংগ্রামী জীবনের অভিযাত্রা।
শেখ মুজিবুর রহমান ১৯৫২ সালের ভাষা আন্দোলন, ১৯৫৪ সালের যুক্তফ্রন্ট নির্বাচন, ১৯৬২ সালের শিক্ষা আন্দোলনেও গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখেন।

বঙ্গবন্ধুর সাহসী ও আপোষহীন নেতৃত্বে অনুপ্রাণিত হয়ে জেগে ওঠে নির্যাতিত-নিপীড়িত পরাধীন বাঙালি জাতি। ১৯৭১ সালের ৭ মার্চ বঙ্গবন্ধু তৎকালীন রেসকোর্স ময়দানে ঐতিহাসিক ভাষণ দেন। যেখানে তিনি ঘোষণা করেন- ‘এবারের সংগ্রাম, আমাদের মুক্তির সংগ্রাম, এবারের সংগ্রাম, স্বাধীনতার সংগ্রাম।’

বঙ্গবন্ধুর এই ঘোষণার পর দেশজুড়ে শুরু হয় সর্বাত্মক অসহযোগ আন্দোলন। তিনি ১৯৭১ সালের ২৬ মার্চের প্রথম প্রহরে পাকিস্তানি হানাদার বাহিনীর হাতে গ্রেফতার হন। এরপর নয় মাস রক্তক্ষয়ী সশস্ত্র যুদ্ধের মধ্য দিয়ে ৩০ লাখ শহীদের আত্মদান ও দুই লাখ মা-বোনের সম্ভ্রমহানির বিনিময়ে অর্জিত হয় স্বাধীনতা। বিশ্বমানচিত্রে অভ্যুদয় ঘটে স্বাধীন বাংলাদেশ নামক রাষ্ট্রের। বাংলা-বাঙালি-বঙ্গবন্ধু এবং বাংলাদেশ ইতিহাসের এক অবিচ্ছেদ্য অংশ। বাংলাদেশ স্বাধীনের চার বছর পরেই ১৯৭৫ সালের ১৫ আগস্ট রাতে ধানমণ্ডি ৩২ নম্বরের বাসভবনে বিশ্বাসঘাতকদের নির্মম বুলেটে সপরিবারে নিহত হন বাংলাদেশ রাষ্ট্রের স্থপতি শেখ মুজিবুর রহমান। ১৯৭১ সালের ৭ মার্চ বঙ্গবন্ধুর ঐতিহাসিক ভাষণ ইউনেস্কো বিশ্বপ্রামাণ্য ঐতিহ্য হিসেবে স্বীকৃতি দিয়েছে।

আওয়ামী লীগ ক্ষমতায় থাকাকালে প্রতিবছর ১৭ মার্চ বঙ্গবন্ধুর জন্মদিন ও জাতীয় শিশু দিবস হিসেবে রাষ্ট্রীয়ভাবে পালন করতো। এছাড়া দলীয়ভাবেও থাকতো নানা কর্মসূচি। তবে চব্বিশের ৫ আগস্ট ছাত্র-জনতার অভ্যুত্থানের মুখে আওয়ামী লীগ সরকারের পতন ঘটে। অভ্যুত্থানের মুখে বঙ্গবন্ধুর কন্যা আওয়ামী লীগের সভানেত্রী ও পতিত স্বৈরাচার প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা ভারতে পালিয়ে যান। পরে গঠিত অন্তবর্তীকালীন সরকার ১৭ মার্চসহ একাধিক দিবস বাতিল করে প্রজ্ঞাপন জারি করে। এছাড়াও পতিত আওয়ামী লীগ দেশে রাজনৈতিকভাবে কার্যক্রম নিষিদ্ধ। দলটির সভাপতি-সম্পাদকসহ শীর্ষস্থানীয় সকল নেতা বিদেশে পলাতক। আর স্থানীয় নেতাদের বেশির ভাগ দেশের অভ্যন্তরে পলাতক কিংবা কারাগারে আছেন।

শেয়ার করুনঃ

শীর্ষ সংবাদ: