সাতক্ষীরার আশাশুনি উপজেলার বুড়িয়া সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয় প্রাঙ্গণে অবস্থিত ঐতিহ্যবাহী বুড়িয়া মন্দিরে দুর্গাপূজার শেষ মুহূর্তের প্রস্তুতি চলছে। প্রতিমাশিল্পী প্রকাশ মণ্ডলের নির্দেশনায় চারজন কারিগর দিন-রাত কাজ করছেন। গত ৫ জুলাই থেকে শুরু হওয়া প্রতিমা তৈরির কাজ আড়াই মাসের বেশি সময় ধরে চলার পর এখন তা প্রায় শেষ পর্যায়ে।
এবারের আয়োজনের বিশেষ আকর্ষণ প্রতিমার অলংকার ও অবয়বে মুক্তার ব্যবহার। দক্ষিণ ভারতীয় চলচ্চিত্রে দেখা বিভিন্ন দেবমূর্তির আদলে তৈরি ১৩টি প্রতিমায় ব্যবহার করা হয়েছে হাজার হাজার মুক্তাদানা। আলোকসজ্জায় মুক্তাখচিত প্রতিমাগুলো দর্শনার্থীদের নজর কাড়বে বলে আশা করছেন আয়োজকেরা।
আয়োজক কমিটি জানায়, ১৩টি প্রতিমার নান্দনিক সাজসজ্জায় ব্যয় হচ্ছে প্রায় ৪ লাখ টাকা। সূক্ষ্ম কারুকাজ সম্পন্ন করতে শিল্পীদের টানা ৫২ দিন কাজ করতে হয়েছে। ইতোমধ্যে প্রায় ৯৭ শতাংশ কাজ শেষ হয়েছে। আগামী এক সপ্তাহের মধ্যে বাকি কাজ শেষ করার লক্ষ্য রয়েছে।
পূজামণ্ডপ ও মেলা প্রাঙ্গণে দর্শনার্থীদের নিরাপত্তায় বিশেষ ব্যবস্থা নেওয়া হয়েছে। পুরো এলাকা সিসিটিভি ক্যামেরার আওতায় আনা হয়েছে। স্থানীয় স্বেচ্ছাসেবকেরাও দিন-রাত দায়িত্ব পালন করবেন।
বিজয়া দশমীতে ঐতিহ্যবাহী ‘বুড়িয়া আড়ং মেলা’র আয়োজনের মধ্য দিয়ে প্রতিমা বিসর্জনের প্রস্তুতিও নেওয়া হয়েছে।
আশাশুনি উপজেলা পূজা উদযাপন পরিষদের তথ্য অনুযায়ী, এবার উপজেলায় ১০৬টি মন্দিরে দুর্গাপূজা অনুষ্ঠিত হচ্ছে। এর মধ্যে বুড়িয়া মন্দিরের মুক্তাখচিত প্রতিমা বিশেষ আকর্ষণ তৈরি করেছে। আয়োজকদের প্রত্যাশা, প্রতিমার নান্দনিকতা দেখতে বিভিন্ন এলাকা থেকে দর্শনার্থীরা আসবেন। জাতি-ধর্ম নির্বিশেষে মানুষের অংশগ্রহণে পূজামণ্ডপে সম্প্রীতির পরিবেশ তৈরি হবে।


























