রোববার ০৮ নভেম্বর ২০২৬

২৩ কার্তিক ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ

চ্যাটজিপিটিতে যে ৫ ধরনের তথ্য দেওয়া ঝুঁকিপূর্ণ

রানার ডেস্ক

প্রকাশিত: ১০:১২, ৮ নভেম্বর ২০২৬

আপডেট: ১৩:০৯, ৮ নভেম্বর ২০২৬

চ্যাটজিপিটিতে যে ৫ ধরনের তথ্য দেওয়া ঝুঁকিপূর্ণ

চ্যাটজিপিটিতে যে ৫ ধরনের তথ্য দেওয়া ঝুঁকিপূর্ণ

চ্যাটজিপিটির মতো কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তার চ্যাটবটে প্রশ্ন করার সময় কিছু তথ্য একেবারেই না লেখা ভালো। অফিসের গোপন নথি, পাসওয়ার্ড, ব্যাংক হিসাব কিংবা ব্যক্তিগত আইনি ও চিকিৎসাসংক্রান্ত তথ্য সেখানে দিলে এমন ডিজিটাল রেকর্ড তৈরি হতে পারে, যার পুরো নিয়ন্ত্রণ ব্যবহারকারীর হাতে না-ও থাকতে পারে।

গবেষণা, লেখালেখি, প্রোগ্রাম তৈরি থেকে ব্যক্তিগত প্রশ্নের উত্তর খোঁজা পর্যন্ত কোটি মানুষ এখন প্রতিদিন চ্যাটবট ব্যবহার করছেন। তবে এই সুবিধার সঙ্গে গোপনীয়তার ঝুঁকিও বাড়ছে। প্রযুক্তিবিষয়ক সংবাদমাধ্যম এনগ্যাজেটের তথ্য অনুযায়ী, পাঁচ ধরনের তথ্যের ক্ষেত্রে বিশেষ সতর্কতা দরকার।

প্রথমটি আইনি সমস্যার বিস্তারিত তথ্য। চলমান মামলার বিবরণ, প্রমাণ বা গোপন নথি, প্রতিপক্ষের ব্যক্তিগত তথ্য এবং আইনজীবীর সঙ্গে আলোচিত কৌশল চ্যাটবটে না দেওয়াই ভালো। আইন ও তথ্যবিজ্ঞান গবেষক ড্যামিয়েন শার্লোতাঁর একটি উন্মুক্ত তথ্যভান্ডারে বিশ্বের ২ হাজারের বেশি আদালতের এমন সিদ্ধান্ত নথিভুক্ত রয়েছে, যেখানে চ্যাটবটের বানানো ভুয়া মামলা, উদ্ধৃতি বা যুক্তি ধরা পড়েছে।

দ্বিতীয়টি মানসিক স্বাস্থ্যসংক্রান্ত ব্যক্তিগত কথা। মন খারাপ, সম্পর্কের টানাপোড়েন বা মানসিক চাপে অনেকে চ্যাটবটকে পরামর্শদাতা হিসেবে ব্যবহার করলেও এটি পেশাদার চিকিৎসক বা মনোরোগ বিশেষজ্ঞের বিকল্প নয়। গবেষণায় দেখা গেছে, কিছু ক্ষেত্রে চ্যাটবট ব্যবহারকারীর নিজস্ব বিশ্বাস বা ধারণাকে মাত্রাতিরিক্ত সমর্থন দিতে পারে; তাই আত্মহানির চিন্তা বা গুরুতর মানসিক সংকটে পেশাদারের সহায়তা নেওয়া জরুরি।

তৃতীয়টি অফিসের গোপন তথ্য। গোপন নথি, প্রতিষ্ঠানের অভ্যন্তরীণ কোড, গ্রাহকের তথ্য, গোপন চুক্তি বা ব্যবসায়িক পরিকল্পনা এবং প্রবেশসংক্রান্ত তথ্য ব্যক্তিগত চ্যাটবটে দেওয়া বড় ঝুঁকি তৈরি করতে পারে। ২০২৩ সালে স্যামসাংয়ের প্রকৌশলীরা চ্যাটবটে প্রতিষ্ঠানের অভ্যন্তরীণ কোড দেওয়ার পর কোম্পানিটি কর্মীদের কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তাভিত্তিক সেবা ব্যবহারে বিধিনিষেধ আরোপ করেছিল।

চতুর্থটি চিকিৎসাসংক্রান্ত ব্যক্তিগত তথ্য। সাধারণ স্বাস্থ্যবিষয়ক ধারণা পেতে চ্যাটবট কাজে লাগলেও পূর্ণ চিকিৎসা ইতিহাস, পরীক্ষার প্রতিবেদন, ওষুধের তালিকা বা চিকিৎসকের দেওয়া ব্যক্তিগত পরামর্শ দিয়ে চিকিৎসা নেওয়ার চেষ্টা ঝুঁকিপূর্ণ। চ্যাটবটের তথ্যকে চিকিৎসকের বিকল্প ভাবা নিরাপদ নয়।

পঞ্চম এবং সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ হলো পাসওয়ার্ড ও আর্থিক তথ্য। পাসওয়ার্ড, একবার ব্যবহারযোগ্য প্রবেশসংকেত, ব্যাংক হিসাব, ডেবিট বা ক্রেডিট কার্ডের তথ্য, জাতীয় পরিচয়পত্র বা পাসপোর্ট নম্বর এবং পরিচয়পত্রের ছবি কোনো অবস্থাতেই চ্যাটবটে লেখা উচিত নয়। এসব অন্যের হাতে পড়লে পরিচয় চুরি, হিসাব বেহাত হওয়া বা আর্থিক প্রতারণার আশঙ্কা থাকে।

সাধারণ জ্ঞান অর্জন, কোনো বিষয় সহজে বোঝা, লেখার খসড়া তৈরি, নতুন ধারণা খোঁজা বা গবেষণার প্রাথমিক সহায়তার জন্য চ্যাটবট ব্যবহার করা যেতে পারে। মূল নিয়ম হলো, যে তথ্য অন্য কেউ জানলে বিপদে পড়ার আশঙ্কা আছে, তা চ্যাটবটে না লেখাই নিরাপদ।

শেয়ার করুনঃ

শীর্ষ সংবাদ: