বৃহস্পতিবার ১৫ অক্টোবর ২০২৬

২৮ আশ্বিন ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ

গোডাউনে মিলল ৬০ বস্তা

কালীগঞ্জে সার না পেয়ে ডিলার পয়েন্ট ঘেরাও

প্রতিনিধি, কালীগঞ্জে (ঝিনাইদহ)

প্রকাশিত: ২১:১২, ১৩ সেপ্টেম্বর ২০২৬

কালীগঞ্জে সার না পেয়ে ডিলার পয়েন্ট ঘেরাও

ঝিনাইদহের কালীগঞ্জে নির্ধারিত দিনে সার না পেয়ে ডিলার পয়েন্ট ঘেরাও করেছেন কৃষকেরা। পরে উপজেলা কৃষি অফিসের ব্যবস্থাপনায় ঘটনাস্থলে থাকা সার কৃষকদের মধ্যে বিতরণ করা হয়। তবে এ সময় সংশ্লিষ্ট ডিলার শহিদুল ইসলাম সেখানে উপস্থিত ছিলেন না। রোববার সকালে উপজেলার জামাল ইউনিয়নের দুধরাজপুর গ্রামের ডিলার পয়েন্টে এ ঘটনা ঘটে।

কৃষকদের অভিযোগ, রোববার সার দেওয়া হবে বলে তাদের জানানো হয়েছিল। নির্ধারিত দিনে ডিলার পয়েন্টে গিয়ে তারা জানতে পারেন, শুক্রবার ও শনিবারই সার বিতরণ করা হয়েছে। রোববার আর সার দেওয়া হবে না—এ কথা জানানো হলে কৃষকেরা উত্তেজিত হয়ে ওঠেন। পরে আরও কৃষক সেখানে জড়ো হন। একপর্যায়ে ডিলার পক্ষের সহযোগিতায় গোডাউন খুলে সেখানে প্রায় ৬০ বস্তা সার পাওয়া যায়।

ঘটনাস্থলে থাকা কৃষকেরা অভিযোগ করেন, ডিলার পয়েন্টে সার না থাকলেও খোলা বাজারে বেশি দামে সার পাওয়া যাচ্ছে। চলতি আমন মৌসুমে ইউরিয়ার পাশাপাশি টিএসপি ও ডিএপি সার নিয়েও তাদের ভোগান্তি হচ্ছে।

খোঁজ নিয়ে জানা যায়, ডিলার শহিদুল ইসলামের চলতি সেপ্টেম্বর মাসে ৬৪ টন সারের চাহিদা ছিল। এর মধ্যে তিনি প্রথম সপ্তাহে ৫৮ টন সার উত্তোলন করেছেন। ৫৮ টনে প্রায় ১ হাজার ২০০ বস্তা সার হয়। তবে ডিলার পয়েন্টে থাকা বিতরণ রেজিস্টার পর্যালোচনা করে গণমাধ্যমকর্মীরা দেখতে পান, বিতরণ করা সারের তালিকায় মাত্র প্রায় ৫ শতাংশ কৃষকের ফোন নম্বর উল্লেখ রয়েছে। তালিকায় থাকা নয়জন কৃষকের সঙ্গে ফোনে যোগাযোগের চেষ্টা করা হলে একজন সার পাওয়ার কথা জানান। বাকি আটজনের ফোন বন্ধ পাওয়া যায়।

ঘটনাস্থলে উপস্থিত উপসহকারী কৃষি কর্মকর্তা আরাফাত জামিল বলেন, ‘যে সার আছে, তা কৃষকদের মধ্যে বিতরণ করছি। উপজেলা কৃষি অফিসের ব্যবস্থাপনায় আরও সার আনা হচ্ছে। সেগুলোও কৃষকদের মধ্যে বিতরণ করা হবে। সার বিতরণের রেজিস্টার পরীক্ষা করে কোনো অনিয়ম হয়েছে কি না, তা দেখা হচ্ছে।’

অভিযুক্ত ডিলার শহিদুল ইসলাম বলেন, ‘আমি যে সার উত্তোলন করেছিলাম, তা বিতরণ করা হয়েছে। বিতরণ করা সারের রেজিস্টার রয়েছে, দেখতে পারেন। চাহিদার তুলনায় কম সার পাওয়া গেলে আমার কী করার আছে।’

উপজেলা কৃষি কর্মকর্তা মাহবুব আলম রনি বলেন, ‘সংবাদ পেয়ে দ্রুত কৃষি কর্মকর্তাদের সেখানে পাঠানো হয়েছে। উপস্থিত কৃষকদের মধ্যে সার বিতরণের ব্যবস্থা করা হয়েছে। সেখানে আরও সার পাঠানোর ব্যবস্থা করা হচ্ছে।’

জেলা কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তরের উপপরিচালক কামরুজ্জামান বলেন, ‘সারের কোনো ঘাটতি নেই। কিছু মানুষ কৃত্রিমভাবে সংকট তৈরির চেষ্টা করছে।’

এর আগে ৫ সেপ্টেম্বর সকালে শৈলকুপার গাড়াগঞ্জ বাজারে সার না পেয়ে সড়ক অবরোধ করে বিক্ষোভ করেন কৃষকেরা। স্থানীয় কৃষকেরা গাড়াগঞ্জ পুরাতন বাজারের সার ডিলার শুভ এন্টারপ্রাইজে সার নিতে গেলে ডিলার সার দিতে অস্বীকৃতি জানান। পরে কৃষকেরা গাড়াগঞ্জ-শৈলকুপা সড়কে গাছের গুঁড়ি ফেলে অবরোধ করেন।

কালীগঞ্জ বাফার গোডাউনের ইনচার্জ অহিদুর রহমানের তথ্য অনুযায়ী, এ গোডাউন থেকে ঝিনাইদহ ও চুয়াডাঙ্গা জেলায় ১২৬ ডিলারের মাধ্যমে ইউরিয়া সার বিতরণ করা হয়। চলতি সেপ্টেম্বর মাসে ইউরিয়া সারের চাহিদা ১০ হাজার ৩৭৩ মেট্রিক টন। গত বছরের একই সময়ে চাহিদা ছিল ৯ হাজার ৫২১ মেট্রিক টন। তিনি দাবি করেন, ইউরিয়া সারের মজুদ, আমদানি ও বিতরণে কোনো ঘাটতি বা অনিয়ম নেই।

শেয়ার করুনঃ

সর্বশেষ

শীর্ষ সংবাদ: