সোমবার ১৪ সেপ্টেম্বর ২০২৬

২৯ ভাদ্র ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ

পণ্য না কিনে ফিরছেন পাইকারি ক্রেতারা

অব্যবস্থাপনায় সংকুচিত চৌগাছার কাঁচাবাজার

প্রতিনিধি, চৌগাছা (যশোর)

প্রকাশিত: ২২:১০, ১৩ সেপ্টেম্বর ২০২৬

অব্যবস্থাপনায় সংকুচিত চৌগাছার কাঁচাবাজার

দীর্ঘদিনের তীব্র অব্যবস্থাপনা, অপরিকল্পিত দখল আর খুচরা বিক্রেতাদের চট বসিয়ে জায়গা দখলের কারণে বেহাল দশায় পরিণত হয়েছে যশোরের চৌগাছা কাঁচাবাজার। দিন দিন বাজারের ভেতরের চলাচলের জায়গা সংকুচিত হয়ে পড়ায় এর সরাসরি প্রভাব পড়ছে পাইকারি বেচাকেনায়।

সর্বশেষ গত শুক্রবার বাজারে এসে ক্ষোভ প্রকাশ করে কোনো কাঁচামাল না কিনেই ফিরে গেছেন পাইকারি ক্রেতারা। বাজারে উপযুক্ত পরিবেশ জায়গার সুষ্ঠু ব্যবস্থাপনা নিশ্চিত করা না হলে তারা আর এখানে ফিরবেন না বলেও সাফ জানিয়ে দিয়েছেন।

স্থানীয় ব্যবসায়ীদের অভিযোগ, মডেল মসজিদ নির্মাণের জন্য বাজারসংলগ্ন কিছু স্থাপনা উচ্ছেদ করা হলেও মূল বাজারের ভেতরে এতদিনেও কোনো সুশাসন ফেরেনি। বাজারের গলি চলাচলের পথ আটকে ছোট ছোট চটের দোকান, মাছের দোকান চায়ের টং গড়ে ওঠায় যাতায়াতের পথ রুদ্ধ হয়ে গেছে।

পাইকারি ব্যবসায়ীরা জানান, মডেল মসজিদের জায়গায় থাকা মাত্র ১৭টি দোকানকে বাজারের নির্মাণাধীন বিল্ডিংয়ের টিনশেডে পুনর্বাসন করা হয়েছে। কিন্তু কিছু স্বার্থান্বেষী মহল নিয়ে বাজারমুখী ক্রেতা-বিক্রেতাদের মাঝে বিভ্রান্তি ছড়ানোর অপচেষ্টা করছে।

বাজার সূত্রে জানা যায়, ইজারাদার আতিকুর রহমান লেন্টু কাঁচাবাজারের জন্য ১৫৭ শতক জায়গা ইজারা নেন। তবে বাজারের পরিসর চারপাশের প্রায় দুইশ শতক জায়গা দখল করে বর্তমানে ব্যবসা পরিচালিত হচ্ছে। এর মধ্যে মাত্র ৪৭ শতক জায়গায় মসজিদ নির্মাণ করা হচ্ছে। মূল বাজারে চরম জায়গা সংকট থাকলেও অপরিকল্পিত দখলের কারণে প্রতিনিয়ত ভোগান্তি বাড়ছে।

পাইকারি ক্রেতাদের অভিযোগ, মূল পাইকারি অংশের ভেতরেই খুচরা বিক্রেতারা চট বিছিয়ে জায়গা দখল করে রেখেছেন। বিষয়ে বারবার বলা সত্ত্বেও হাট ইজারাদার কোনো দৃশ্যমান পদক্ষেপ নেননি।

তবে হাট ইজারাদার আতিকুর রহমান লেন্টুর দাবি, তাঁর ইজারা নেওয়া জায়গাই অবৈধভাবে দখল হয়ে আছে। জায়গা সংকটের কারণে পাইকারি বেচাকেনা বিঘ্নিত হচ্ছে এবং ক্রেতারা পণ্য না কিনে ফিরে যেতে বাধ্য হচ্ছেন।

এদিকে স্থানীয় অধিবাসীরা অভিযোগ করেন, সরকারি স্কুলের জায়গা নামমাত্র মূল্যে ভাড়া নিয়ে কাঁচাবাজার বসিয়ে বিপুল মুনাফা লুটছে একটি মহল। অথচ এই কাঁচাবাজারের বেহাল অবস্থার কারণে শিক্ষার্থী সাধারণ পথচারীদের দৈনন্দিন দুর্ভোগ চরমে পৌঁছেছে। দ্রুত এই সমস্যার একটি স্থায়ী সমাধান দাবি করেছেন তারা।

ব্যবসায়ীদের মতে, চৌগাছা কাঁচাবাজারের পুরোনো প্রাণচাঞ্চল্য ফিরিয়ে আনতে অবিলম্বে বাজারের মাঝখান থেকে মাছের দোকান সরানো, খুচরা কাঁচাবাজার অন্যত্র স্থানান্তর, অবৈধ ঝুপড়ি দোকান উচ্ছেদ এবং পাইকারি আড়তগুলো নির্ধারিত স্থানে সরিয়ে নেওয়া জরুরি। কঠোর তদারকি পরিকল্পিত বাজার ব্যবস্থাপনা নিশ্চিত করলেই কেবল এই সংকট দূর করা সম্ভব।

শেয়ার করুনঃ

শীর্ষ সংবাদ: