খুলনার ডুমুরিয়া উপজেলার বিস্তীর্ণ এলাকা দীর্ঘস্থায়ী জলাবদ্ধতায় পানির নিচে রয়েছে। বিশেষ করে বিল ডাকাতিয়া ও আশপাশের নিম্নাঞ্চলে পানি জমে থাকায় চরম দুর্ভোগে পড়েছেন কৃষক, মৎস্যচাষি ও সাধারণ মানুষ। ঘরবাড়ি, রাস্তা ও কৃষিজমিতে পানি জমে থাকায় ব্যাহত হচ্ছে স্বাভাবিক জীবনযাত্রা।
স্থানীয়দের অভিযোগ, শোলমারী নদী ও এর সঙ্গে সংযুক্ত খালগুলো দীর্ঘদিন পলি জমে নাব্যতা হারিয়েছে। ফলে বর্ষা ও অতিবৃষ্টির পানি দ্রুত নিষ্কাশিত হতে না পেরে ডুমুরিয়ার বিভিন্ন এলাকা ও বিল ডাকাতিয়ায় দীর্ঘস্থায়ী জলাবদ্ধতার সৃষ্টি হচ্ছে।
পানি উন্নয়ন বোর্ডের তথ্য অনুযায়ী, ডুমুরিয়া ও বটিয়াঘাটা উপজেলার শোলমারী নদী এবং সংযুক্ত খালগুলোর জলাবদ্ধতা নিরসনে বিভিন্ন প্রকল্প নেওয়া হয়েছে। চলতি অর্থবছরেও শোলমারী নদী ও সংশ্লিষ্ট খাল পুনঃখননের জন্য একাধিক দরপত্র হয়েছে।
চলতি বছরের জুলাইয়ে বিল ডাকাতিয়ার জলাবদ্ধতা কমাতে শৈলমারী স্লুইসগেট খুলে দেওয়া হয়। তখন প্রশাসনের পক্ষ থেকে দ্রুত পানি নিষ্কাশনকে তাৎক্ষণিক লক্ষ্য হিসেবে উল্লেখ করা হয়েছিল। তবে স্থানীয়দের দাবি, স্থায়ী সমাধানের জন্য শোলমারী নদী ও সংযোগ খালগুলো পুনঃখননের পাশাপাশি পানি নিষ্কাশনব্যবস্থার সামগ্রিক উন্নয়ন প্রয়োজন।
এক স্থানীয় বাসিন্দা বলেন, ‘পানি নামছে না। ঘরবাড়ি, রাস্তা ও কৃষিজমি—সব জায়গায় পানি। রান্না করা থেকে শুরু করে টয়লেট ব্যবহার—সবকিছুতেই দুর্ভোগ পোহাতে হচ্ছে।’
জলাবদ্ধতার কারণে ফসলি জমি ও মাছের ঘের পানিতে তলিয়ে যাওয়ায় কৃষি ও মৎস্য খাতেও ক্ষতির আশঙ্কা দেখা দিয়েছে। দীর্ঘদিন পানি জমে থাকায় জনস্বাস্থ্য নিয়েও উদ্বেগ বাড়ছে। স্থির পানিতে মশার বিস্তার বাড়ায় ডেঙ্গুসহ মশাবাহিত রোগের ঝুঁকি নিয়েও শঙ্কা প্রকাশ করেছেন স্থানীয়রা।
স্থানীয়দের দাবি, দ্রুত পানি নিষ্কাশনের পাশাপাশি নদী-খাল পুনঃখনন, পর্যাপ্ত পানি প্রবাহ নিশ্চিত করা এবং দীর্ঘমেয়াদি পরিকল্পনা বাস্তবায়নের মাধ্যমে ডুমুরিয়া ও বিল ডাকাতিয়ার জলাবদ্ধতার স্থায়ী সমাধানে কার্যকর পদক্ষেপ নিতে হবে।


























