খুলনা নগরীর গোবরচাকা এলাকায় আলোচিত পলাশ তালুকদার ওরফে ‘চিংড়ি পলাশের’ বাড়িতে অভিযান চালিয়ে তিনটি বিদেশি পিস্তল, চারটি ম্যাগাজিন ও নয় রাউন্ড গুলি উদ্ধার করেছে মহানগর গোয়েন্দা পুলিশ (ডিবি)। এ ঘটনায় পলাশের স্ত্রী টিকলী মাক্কি রানী (৩০) ও রিফাত তালুকদার (২১) নামে এক যুবককে আটক করা হয়েছে।
বুধবার দিবাগত রাত ১টা ৪৫ মিনিট থেকে ভোররাত ৩টা ১০ মিনিট পর্যন্ত সোনাডাঙ্গা থানাধীন গোবরচাকা এলাকায় এ অভিযান চালানো হয়।
ডিবি পুলিশের উপ-পুলিশ কমিশনার রিপন চন্দ্র সরকারের নেতৃত্বে একটি দল গোপন সংবাদের ভিত্তিতে ওই বাড়িতে অভিযান চালায়। পুলিশের কাছে তথ্য ছিল, বাড়িটিতে যশোর থেকে আসা কয়েকজন অস্ত্রধারী অবস্থান করছে। পরে অভিযান চালিয়ে রিফাত তালুকদারকে আটক করা হয়।
ডিবি জানায়, রিফাতের দেওয়া তথ্যের ভিত্তিতে একই ভবনের দ্বিতীয় তলার পূর্ব পাশের একটি কক্ষে তল্লাশি চালানো হয়। সেখান থেকে তিনটি বিদেশি পিস্তল, চারটি ম্যাগাজিন ও নয় রাউন্ড গুলি উদ্ধার করা হয়।
রিফাত তালুকদার যশোরের শংকরপুর বাস টার্মিনাল এলাকার মো. ইদ্রিস তালুকদারের ছেলে। তিনি ওই বাড়িতে কীভাবে অবস্থান করছিলেন এবং উদ্ধার হওয়া অস্ত্রের সঙ্গে তার কী ধরনের সংশ্লিষ্টতা রয়েছে, তা তদন্ত করছে ডিবি।
অভিযানের সময় পলাশের স্ত্রী টিকলী মাক্কি রানীকেও বাড়ি থেকে আটক করা হয়।
জিজ্ঞাসাবাদে টিকলী দাবি করেন, স্বামী পলাশ গ্রেপ্তার হওয়ার পর তিনি দুই সন্তানকে নিয়ে ঢাকায় চলে যান এবং সেখানে একটি পোশাক কারখানায় কাজ করতেন। পরে পলাশ জামিনে বের হয়েছেন—এমন কথা বলে তাঁর ভাশুর তাকে খুলনায় নিয়ে আসেন।
পুলিশকের কাছে তিনি দাবি করেন, বাড়ি থেকে উদ্ধার হওয়া অস্ত্র সম্পর্কে তিনি কিছু জানতেন না। এ বিষয়ে তাঁর ভাশুর জানেন।
ডিবি জানিয়েছে, প্রাথমিকভাবে ধারণা করা হচ্ছে, উদ্ধার হওয়া অস্ত্রগুলো পলাশের বড় ভাইয়ের হেফাজতে ছিল। তবে অস্ত্রগুলোর মালিকানা, উৎস ও কী উদ্দেশ্যে সেগুলো সংরক্ষণ করা হয়েছিল, তা তদন্তের পর নিশ্চিত হওয়া যাবে।
ডিবি জানিয়েছে, রিফাত তালুকদারের দেওয়া তথ্যের ভিত্তিতেই দ্বিতীয় তলার একটি কক্ষ থেকে অস্ত্র ও গোলাবারুদ উদ্ধার করা হয়েছে। তাঁর সঙ্গে পলাশের পরিবারের যোগাযোগ, ওই বাড়িতে অবস্থানের কারণ এবং উদ্ধার হওয়া অস্ত্রের সঙ্গে সরাসরি সংশ্লিষ্টতা রয়েছে কি না—এসব বিষয় তদন্ত করা হচ্ছে।
আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর তথ্য অনুযায়ী, পলাশ তালুকদার ওরফে ‘চিংড়ি পলাশ’ সোনাডাঙ্গা থানার গোবরচাকা এলাকার সুলতান তালুকদারের ছেলে। তার বিরুদ্ধে হত্যা, মাদক, চাঁদাবাজি, মারামারি ও বিস্ফোরক আইনের মামলাসহ প্রায় ১২টি মামলা রয়েছে।
২০২৪ সালের ২৯ ডিসেম্বর রাতে গোবরচাকা এলাকায় যৌথবাহিনীর অভিযানে পলাশ ও তাঁর স্ত্রীকে আটক করা হয়েছিল। সে সময় পলাশের দেওয়া তথ্যের ভিত্তিতে তাঁর বাড়ি থেকে পাঁচটি ককটেল, দুটি রামদা, দুটি চাইনিজ কুড়ালসহ বিভিন্ন দেশীয় অস্ত্র ও ছয়টি মোবাইল ফোন উদ্ধারের কথা জানিয়েছিল আইনশৃঙ্খলা বাহিনী।
পরবর্তীতে ২০২৫ সালের ৭ ডিসেম্বর রাতে যশোর শহরের নাজিরশংকরপুর জিরো পয়েন্ট এলাকা থেকে পলাশকে গ্রেপ্তার করে র্যাব-৬-এর যশোর ক্যাম্প। র্যাবের পক্ষ থেকে তখন তাঁর বিরুদ্ধে ১২টি মামলা থাকার কথা জানানো হয়।


























