মঙ্গলবার ০৮ সেপ্টেম্বর ২০২৬

২৩ ভাদ্র ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ

সিটি নির্বাচনে অংশ নিতেই ভোটার স্থানান্তর আসিফ-পাটওয়ারীর

রানার ডেস্ক

প্রকাশিত: ১৩:১৬, ৮ সেপ্টেম্বর ২০২৬

সিটি নির্বাচনে অংশ নিতেই ভোটার স্থানান্তর আসিফ-পাটওয়ারীর

একই দিনে নিজেদের ভোটার এলাকা স্থানান্তর করেছেন এনসিপির দুই নেতা আসিফ মাহমুদ সজীব ভূঁইয়া ও নাসীরুদ্দীন পাটওয়ারী। দলটির নেতাদের সঙ্গে কথা বলে জানা গেছে, আসন্ন সিটি করপোরেশন নির্বাচনে অংশ নিতেই এই সিদ্ধান্ত তাদের।

নির্বাচন কমিশনের নির্ধারিত সময়সীমার মধ্যে সোমবার (৭ সেপ্টেম্বর) এই ভোটার স্থানান্তর প্রক্রিয়া সম্পন্ন হয়। একই দিন কুমিল্লা সিটি করপোরেশনে এনসিপি সমর্থিত মেয়রপ্রার্থী অ্যাডভোকেট তারিকুল ইসলামও নিজের ভোটার এলাকা বদলেছেন।

জোটগত সমীকরণ সরিয়ে রেখে আসন্ন স্থানীয় সরকার নির্বাচনে এককভাবে অংশ নেওয়ার সিদ্ধান্ত নিয়েছে এনসিপি। ১১ দলীয় জোটের সমীকরণ ছাড়াই সিটি করপোরেশন নির্বাচনে পূর্ণ শক্তিতে প্রতিদ্বন্দ্বিতার রাজনৈতিক ও কৌশলগত প্রস্তুতি নিচ্ছে দলটি। এর অংশ হিসেবেই নিজেদের ভোটার এলাকা বদলেছেন অন্তত তিন নেতা।

অন্তর্বর্তীকালীন সরকারের সাবেক উপদেষ্টা ও এনসিপির মুখপাত্র আসিফ মাহমুদ সজীব ভূঁইয়া আগে ঢাকা দক্ষিণ সিটি করপোরেশনের ভোটার ছিলেন। এখন তিনি ঢাকা উত্তর সিটি করপোরেশনের আফতাবনগর এলাকার ভোটার হিসেবে নিবন্ধিত হয়েছেন।

অন্যদিকে দলের মুখ্য সমন্বয়ক নাসীরুদ্দীন পাটওয়ারী আগে ঢাকা উত্তর সিটি করপোরেশনের উত্তরা এলাকার ভোটার ছিলেন। এখন তিনি ঢাকা দক্ষিণ সিটি করপোরেশনের আওতাধীন ঢাকা-৮ আসনের অন্তর্ভুক্ত এলাকায় ভোটার হয়েছেন।

একই সময়ে কুমিল্লা সিটি করপোরেশনের এনসিপি সমর্থিত মেয়রপ্রার্থী অ্যাডভোকেট তারিকুল ইসলামও নিজের ভোটার এলাকা বদলেছেন। তিনি কুমিল্লার মুরাদনগর উপজেলা থেকে স্থানান্তরিত হয়ে কুমিল্লা সিটি করপোরেশন এলাকায় নিজস্ব ভোটার নিবন্ধন প্রক্রিয়া সম্পন্ন করেছেন।

জাতীয় নাগরিক পার্টির (এনসিপি) মুখপাত্র আসিফ মাহমুদ সজীব ভূঁইয়া এশিয়া পোস্টকে বলেন, ‘স্থানীয় সরকার নির্বাচনের বিষয়ে ১১ দলীয় জোটের অংশীদারদের সঙ্গে কোনো আনুষ্ঠানিক আলোচনা হয়নি। ফলে এককভাবে নির্বাচনে অংশ নিতে যাচ্ছে এনসিপি। সম্পূর্ণ একক শক্তিতে সারাদেশে সিটি করপোরেশন, পৌরসভা ও স্থানীয় সব পর্যায়ে প্রার্থী দেওয়ার প্রস্তুতি নেওয়া হচ্ছে।’

ভিন্নধর্মী ইশতেহার, দলের পূর্ববর্তী কার্যক্রম, প্রার্থীর যোগ্যতা ও জনগণের প্রতি দায়বদ্ধতার বিচারে এনসিপি ভালো ফল করবে বলে আশাবাদ প্রকাশ করেন সাবেক এই উপদেষ্টা।

এনসিপির যুগ্ম সদস্য সচিব জয়নাল আবেদীন শিশির এশিয়া পোস্টকে বলেন, ‘স্থানীয় নির্বাচন ঘিরে কোনো রাজনৈতিক দল বা জোটসঙ্গীদের সঙ্গে আসন ভাগাভাগির পরিকল্পনা নেই। জোটের অন্যরাও একই বক্তব্য দিচ্ছেন, তাই এখানে টানাপড়েনের কোনো শঙ্কা দেখছি না।’

ভবিষ্যতে কোনো পক্ষ নির্বাচন থেকে সরে গিয়ে সমঝোতার মাধ্যমে জোটের একক প্রার্থীকে সমর্থন দেওয়ার সম্ভাবনা নেই বলেও জানান শিশির।

এদিকে এবারের স্থানীয় সরকার নির্বাচনে দলীয় প্রতীকের ব্যবহার না থাকার বিষয়টিকে ইতিবাচকভাবে দেখছে এনসিপি। দলটির শীর্ষস্থানীয় নেতাদের মতে, প্রতীকবিহীন নির্বাচনে কোনো বিশেষ দল বা মার্কাকেন্দ্রিক আনুগত্য প্রকাশ পাবে না। এতে স্থানীয় রাজনীতিতে স্বচ্ছ ও উন্মুক্ত প্রতিদ্বন্দ্বিতার সুযোগ তৈরি হবে। নাগরিকদের জন্য দলীয় প্রতীকের বদলে প্রার্থীর যোগ্যতা, নাগরিক সুবিধা নিশ্চিতের সক্ষমতা ও সামাজিক গ্রহণযোগ্যতা বিচার করে জনপ্রতিনিধি বেছে নেওয়ার পথ সুগম হবে।

আসন্ন স্থানীয় সরকার নির্বাচনে দলের সম্ভাব্য প্রার্থীদের যথেষ্ট দক্ষ ও গণমুখী চরিত্রের বলে মনে করছেন এনসিপি নেতারা। তাদের প্রত্যাশা, মানুষ সচেতনভাবে সঠিক প্রার্থী বাছাই করলে এর সুফল পাবেন এনসিপি প্রার্থীরা। সেক্ষেত্রে ঢাকার দুই সিটিসহ সারাদেশে মেয়র পদসহ বিভিন্ন পর্যায়ে তাদের বিজয়ী হওয়ার সম্ভবনা রয়েছে।

সূত্রঃ এশিয়া পোস্ট

শেয়ার করুনঃ

সর্বশেষ

শীর্ষ সংবাদ: