উপকূলীয় সাতক্ষীরার শ্যামনগর উপজেলার খুঁটিকাটা গ্রাম। একসময় যেখানে লবণাক্ততার প্রভাবে শীত বা গ্রীষ্মে সবজি চাষ করা ছিল এক দুর্ভেদ্য চ্যালেঞ্জ, সেই গ্রামেই এখন দৃশ্যপট বদলে গেছে। দিগন্তজোড়া সবুজের সমারোহ আর কৃষকদের ব্যস্ততা নিয়ে খুঁটিকাটা এখন হয়ে উঠেছে এক স্বাবলম্বী জনপদ।
উপকূলীয় এই এলাকার প্রায় ৪০০ কৃষক এখন নিয়মিত বিভিন্ন জাতের সবজি চাষ করে নিজেদের ভাগ্যের চাকা ঘোরাচ্ছেন। স্থানীয় কৃষক নীলকান্ত ও সুব্রত জানান, অতিরিক্ত লবণাক্ততার কারণে চাষাবাদে প্রতিনিয়ত ক্ষতি হওয়ায় অনেকে কৃষিকাজ ছেড়ে দিতে বসেছিলেন। তবে সিনজেনটা কোম্পানির ‘গো-গ্রো’ প্রকল্পের কারিগরি সহযোগিতা, প্রশিক্ষণ ও উন্নত মানের উচ্চফলনশীল বীজ ব্যবহারে নতুন আশার আলো দেখতে পান তারা।
সবজি চাষে সেচের প্রধান বাধা মিষ্টি পানির সংকট মেটাতে এই প্রকল্পের মাধ্যমে গ্রামের বিভিন্ন পয়েন্টে ১৫টি পুকুর খনন করা হয়েছে। বর্ষার পানি ধরে রেখে সে কাজে লাগানোর ফলে বছরজুড়েই এখন বৈচিত্র্যময় সবজি উৎপাদন সম্ভব হচ্ছে। কেবল কৃষি উন্নয়নই নয়, পরিবেশ রক্ষা ও সবুজ বেষ্টনী তৈরিতে গ্রামের দুই কিলোমিটার রাস্তার দু’পাশে রোপণ করা হয়েছে লবণসহিষ্ণু কয়েক শ গাছের চারা।
তবে কৃষকদের নতুন অর্জনের পথে একমাত্র অন্তরায় হয়ে দাঁড়িয়েছে যোগাযোগের দুর্বল অবকাঠামো।
চাষিরা জানান, গ্রামে প্রায় তিন কিলোমিটার কাঁচা রাস্তা থাকায় বর্ষা মৌসুমে যাতায়াত অত্যন্ত কঠিন হয়ে পড়ে।
এতে উৎপাদিত ফসল সময়মতো মূল বাজারে নেওয়া সম্ভব হয় না এবং পচনশীল সবজি নষ্ট হয়ে বড় ধরনের ক্ষতির মুখোমুখি হতে হয়। দ্রুত সড়কটি পাকাকরণের দাবি জানান তারা।
কৃষি সংশ্লিষ্টদের মতে, প্রতিকূল পরিবেশকে জয় করে খুঁটিকাটা গ্রামের কৃষকদের এই ঘুরে দাঁড়ানো উপকূলীয় অঞ্চলের কৃষিসম্ভাবনার এক ইতিবাচক মডেল। যোগাযোগ ব্যবস্থার উন্নয়ন ও উপযুক্ত সরকারি পৃষ্ঠোপোষকতা পেলে এই গ্রাম সারা দেশের জন্য অনুপ্রেরণা হতে পারে।


























