বাগেরহাটের মোল্লাহাট উপজেলায় ধান-চাল সংগ্রহে অনিয়মের অভিযোগে উঠেছে। কৃষকদের অভিযোগ, নির্ধারিত পরিমাপের চেয়ে অতিরিক্ত ধান নেওয়া হচ্ছে। এতে ক্ষতির শিকার হচ্ছেন তারা।
সোমবার সকাল সাড়ে ১০টার দিকে উপজেলার গাড়ফা বাজার খাদ্য গুদামে কৃষকদের কাছ থেকে ধান সংগ্রহ কার্যক্রম শুরু হয়। উপজেলা প্রশাসনের পক্ষ থেকে এটিকে অনানুষ্ঠানিক উদ্বোধন বলা হলেও সংগ্রহ প্রক্রিয়া ঘিরে শুরু থেকেই নানা প্রশ্ন দেখা দেয়। সরকারি নির্দেশনা অনুযায়ী কৃষকদের কাছ থেকে প্রতি কেজি ধান ৩৬ টাকা দরে প্রতি বস্তায় ৪০ কেজি করে ধান সংগ্রহ করার কথা।
কিন্তু সরেজমিনে দেখা যায়, গুদামে কর্মরত শ্রমিকেরা প্রতি বস্তায় ৪২ কেজি করে ধান পরিমাপ করছেন। এ নিয়ে কৃষকদের মধ্যে মিশ্র প্রতিক্রিয়া দেখা গেছে। খাদ্য গুদামে দায়িত্বরত কয়েকজন শ্রমিক জানান, প্রতি বস্তায় ৪২ কেজি ধান নেয়া হচ্ছে।
লেবার সরদার ফুরকান বলেন, এই ধান গোডাউনে ৮ মাস থাকবে, ওই সময়ে ওজন কমবে, সেই জন্য ওজন ১ কেজি বেশি নিচ্ছি।
এ বিষয়ে জানতে চাইলে ওসিএলএসডি ইব্রাহিম হোসেন বলেন, সরকারি বস্তার ওজন ৭০০ থেকে ৭৫০ গ্রাম হওয়ায় প্রতি বস্তায় ৪১ কেজি ধান নেয়া হচ্ছে। শুরুতে অতিরিক্ত ধান নেয়ার বিষয়টি অস্বীকার করলেও পরে তিনি বস্তার ওজনের বিষয়টি সামনে আনেন। ধান বিক্রি করতে আসা এক কৃষক বলেন, সরকারিভাবে ধান দিতে পারাটাই বড় বিষয়। সুযোগ পাওয়া কঠিন। বাইরে বাজারের চেয়ে সরকার বেশি দামে ধান কিনছে। তবে নির্ধারিত ওজনের চেয়ে বেশি নেয়া ঠিক না।
উপজেলা খাদ্য নিয়ন্ত্রক শফিকুল ইসলাম জানান, উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তাকে বিষয়টি অবহিত করার পর তিনি খাদ্য গুদামে গিয়ে কৃষকদের কাছ থেকে ধান-চাল সংগ্রহ কার্যক্রমের অনানুষ্ঠানিক উদ্বোধন করেন। আনুষ্ঠানিক উদ্বোধন হলে সাংবাদিকদের জানানো হতো বলেও তিনি উল্লেখ করেন।
এ বিষয়ে উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা সুমনা আইরিন বলেন, নির্ধারিত পরিমাপের বেশি নেয়ার সুযোগ নেই। বিষয়টি খতিয়ে দেখা হবে। তনি আরও জানান, খাদ্য বিভাগের সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তাদের সঙ্গে এ বিষয়ে কথা বলা হবে।
খাদ্য বিভাগ সূত্রে জানা গেছে, চলতি মৌসুমে মোল্লাহাট উপজেলায় মোট ৯০৮ মেট্রিক টন ধান এবং ১ হাজার ৩১৪ মেট্রিক টন সিদ্ধ চাল সংগ্রহের লক্ষ্যমাত্রা নির্ধারণ করা হয়েছে। আগামী ৩১ আগস্ট ২০২৬-এর মধ্যে সরকার নির্ধারিত মূল্যে এ সংগ্রহ কার্যক্রম সম্পন্ন করার লক্ষ্য রয়েছে।


























