রোববার ২১ জুন ২০২৬

৭ আষাঢ় ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ

চৌরাস্তার ফুটপাতে হারিয়ে যেতে বসা দেশি ফল

উবাঈদ সামি

প্রকাশিত: ১৮:২০, ২০ জুন ২০২৬

চৌরাস্তার ফুটপাতে হারিয়ে যেতে বসা দেশি ফল

ফুটপাতজুড়ে শোভা ছড়াচ্ছে হারিয়ে যেতে বসা ঝুড়িভর্তি দেশি ফল—ডেউয়া, কাউফল ও করমচা। অন্যান্য ফলের ভিড়ে ব্যতিক্রমী স্বাদ ও বৈশিষ্ট্যের এসব দুর্লভপ্রায় ফল ক্রেতাদের দৃষ্টি কাড়ছে। প্রতি কেজি এসব ফল বিক্রি হচ্ছে ৮০ থেকে ১০০ টাকায়। এছাড়া শহরের ফলের দোকানগুলোও মৌসুমি ফল—তালের শাঁস, বেল, কাঁঠাল ও লিচুতে ভরপুর।


ক্রেতা ও বিক্রেতাদের সঙ্গে কথা বলে জানা গেছে, বর্ষার শুরুতে এই ফলের সমাহার শুধু রসনা মেটাচ্ছে না, চাঙা করছে স্থানীয় অর্থনীতিও।
ফল বিক্রেতা জামিল হোসেন বলেন, “মানুষ এখন ফলের ক্ষেত্রে বৈচিত্র খুঁজছে। ডেউয়া, কাউফল ও দেশি খেজুরের কদর বেড়েছে। দাম কিছুটা বেশি হলেও ক্রেতারা কিনছেন। আমি জাম বিক্রি করি ১৫০ থেকে ২০০ টাকায়, ডেউয়া ৮০ টাকা এবং কাউফল ১১০ টাকা কেজি।”


যশোর বেজপাড়ার বাসিন্দা রাহিমা খাতুন ব্যাগভর্তি ফল নিয়ে বাসায় ফিরছিলেন। তিনি বলেন, “ছোটবেলায় দাদাবাড়ির গাছ থেকে জাম আর ডেউয়া পেড়ে খেতাম। এখন শহরে খুব একটা পাওয়া যায় না। ফুটপাতে এসব ফল দেখে ভালো লাগছে। দাম একটু বেশি হলেও কিনেছি, বাচ্চারাও খেতে পছন্দ করে।”
ঝুমঝুমপুর এলাকার ইয়ার আলী বলেন, “আগে এলাকায় অনেক বেল ও তাল গাছ ছিল। এখন গাছ কেটে ফেলায় এসব ফল পাওয়া যায় না। বাজারে দেখে নস্টালজিয়া কাজ করে। দেশি ফল খেলে শরীরও ভালো থাকে, দামও তুলনামূলক কম।”


যশোরের সিভিল সার্জন ডা. মাসুদ রানা বলেন, দেশি ফল খাওয়ার অভ্যাস বাড়লে আমদানি করা ফলের ওপর নির্ভরতা কমবে, এতে বৈদেশিক মুদ্রাও সাশ্রয় হবে।
যশোর বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়ের খাদ্য ও পুষ্টি বিজ্ঞান বিভাগের সহকারী অধ্যাপক তানভির আহমেদ বলেন, গ্রীষ্মকালীন দেশি ফল শুধু সুস্বাদুই নয়, এগুলো শরীরের জন্য উপকারী। এগুলো প্রাকৃতিকভাবে রোগ প্রতিরোধে সহায়তা করে এবং পুষ্টির চাহিদা পূরণে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখে। 


তিনি আরও বলেন, এসব মৌসুমি ফল প্রাকৃতিক পুষ্টি উপাদানে সমৃদ্ধ, যা মানবদেহের জন্য উপকারী।
গ্রামবাংলার হারিয়ে যেতে বসা গ্রীষ্মকালীন ফল যশোরের বাজারে ফিরে আসা শুধু স্মৃতির বিষয় নয়, এটি স্থানীয় অর্থনীতির জন্যও ইতিবাচক ভূমিকা রাখছে।

শেয়ার করুনঃ

শীর্ষ সংবাদ: