বুধবার ০১ জুলাই ২০২৬

১৭ আষাঢ় ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ

অসমাপ্ত ‘বীর পুরুষ’ আর এক শিল্পীর শেষ পাপেট

রানার প্র‌তি‌বেদক

প্রকাশিত: ১৩:৩৬, ৩০ জুন ২০২৬

অসমাপ্ত ‘বীর পুরুষ’ আর এক শিল্পীর শেষ পাপেট

দেশবরেণ্য চিত্রশিল্পী, একুশে পদকপ্রাপ্ত মুস্তাফা মনোয়ার সোমবার সকালে রাজধানীর এক হাসপাতালে শেষ নিঃশ্বাস ত্যাগ করেন। বয়স হয়েছিল ৯০। নিউমোনিয়া আর প্রোস্টেট ক্যানসারের সঙ্গে লড়াই করতে থেমে গেল একটা যুগ। 


কিন্তু থেমে থাকেনি তার সবচেয়ে বড় স্বপ্ন। শেষ কয়েকটা বছর মুস্তাফা মনোয়ার বেঁচে ছিলেন একটা সিনেমার জন্য। নাম : ‘বীর পুরুষ’। 
রবীন্দ্রনাথের কবিতা অবলম্বনে পাপেটভিত্তিক এই চলচ্চিত্র ছিল তার আজীবনের লালন। নিজের হাতে গড়া মাল্টিমিডিয়া পাপেট থিয়েটারের ঘরে বসে অর্ধেক সিনেমা তিনি শেষও করেছিলেন। অসংখ্য পুতুল। প্রতিটায় তার আঙুলের ছাপ, দীর্ঘদিনের শ্রম। অসুস্থতা তাকে আইসিইউ পর্যন্ত নিয়ে গেল। তবু কলম থামল, ক্যামেরা থামল না। 
মুস্তাফা মনোয়ারের বাসার দোতলার ‘পাপেট বাড়ি’। সেখানেই এখনও চলছে ‘বীর পুরুষ’-এর কাজ। 
তিন দশকের সহযোদ্ধা অনুকূল চন্দ্র দাস বলছেন, ‘স্যারের অনেক দিনের ইচ্ছা ছিল একটি পাপেট সিনেমা নির্মাণ করবেন। ‘বীর পুরুষ’ সেই স্বপ্নেরই অংশ। স্যার নিজেই অনেক পাপেট তৈরি করেছেন। আমরা তার সঙ্গে কাজ করেছি, এখনও সেই কাজ চালিয়ে যাচ্ছি।’
মাল্টিমিডিয়া পাপেট থিয়েটারের সোহেল আহমদ জানালেন, সংস্কৃতি মন্ত্রণালয়ের সহযোগিতায় শুরু হওয়া কাজ এখনও অসমাপ্ত। অনুকূল বাবুর গলায় আক্ষেপ- ‘এখন কাজ চলছে, তবে শেষ পর্যন্ত সিনেমাটি সম্পন্ন করা যাবে কি না, তা এই মুহূর্তে বলতে পারছি না।’
মুস্তাফা মনোয়ার চলে গেলেন ‘বীর পুরুষ’ অসম্পূর্ণ রেখে। কিন্তু তিনি রেখে গেলেন একটা প্রশ্ন : একজন শিল্পী কি তার কাজ শেষ করেই যান, নাকি কাজটাই তাকে বাঁচিয়ে রাখে? 
পুতুলগুলো কথা বলছে না আজ। শুধু তাকিয়ে আছে। যেন অপেক্ষা করছে, কবে তাদের ‘বীর পুরুষ’ পর্দায় উঠবে। গুরু নেই। কিন্তু স্বপ্নটা বেঁচে আছে শিষ্যদের হাতে। হয়তো এটাই মুস্তাফা মনোয়ারের সবচেয়ে বড় ‘বীর পুরুষ’-এর গল্প। 
এদিকে, দেশের বরেণ্য চিত্রশিল্পী, একুশে পদকপ্রাপ্ত মুস্তাফা মনোয়ারের জানাজা আজ মঙ্গলবার অনুষ্ঠিত হবে। এরপর সর্বস্তরের মানুষের শ্রদ্ধা জানানোর জন্য তার মরদেহ নেওয়া হবে কেন্দ্রীয় শহীদ মিনারে। সোমবার বেলা ১১টার দিকে রাজধানীর একটি বেসরকারি হাসপাতালে এ তথ্য জানান শিল্পীর ছেলে সাদাত মনোয়ার।
তিনি জানান, ১৪ জুন গুরুতর অসুস্থ অবস্থায় তাকে হাসপাতালে ভর্তি করা হয়। পরে শারীরিক অবস্থার অবনতি হলে তাকে নিবিড় পরিচর্যা কেন্দ্রে (আইসিইউ) নেওয়া হয়। চিকিৎসকদের সর্বাত্মক চেষ্টা সত্ত্বেও শেষ পর্যন্ত তিনি না ফেরার দেশে পাড়ি জমান।
এদিকে শিল্পী মুস্তাফা মনোয়ারের মৃত্যুতে দেশের সাংস্কৃতিক অঙ্গনে নেমে এসেছে শোকের ছায়া।
১৯৩৫ সালের ১ সেপ্টেম্বর মাগুরার নাকোল গ্রামে জন্মান মুস্তাফা মনোয়ার। তার পৈতৃক নিবাস ঝিনাইদহ জেলার শৈলকূপার মনোহরপুর গ্রামে। তিনি কবি গোলাম মোস্তফা ও জমিলা খাতুনের সন্তান।
নারায়ণগঞ্জ গভর্নমেন্ট স্কুল থেকে মাধ্যমিক পাস করার পর কলকাতার স্কটিশ চার্চ কলেজে বিজ্ঞান বিভাগে ভর্তি হলেও পরে নিজের আগ্রহের টানে কলকাতা সরকারি চারু ও কারুকলা মহাবিদ্যালয়ে ভর্তি হন। ১৯৫৯ সালে সেখান থেকে চারুকলায় প্রথম শ্রেণিতে প্রথম স্থান অর্জন করেন।
 

শেয়ার করুনঃ

শীর্ষ সংবাদ: