ঝিনাইদহের মহেশপুর উপজেলার ঐতিহ্যবাহী খালিশপুর বহুমুখী মাধ্যমিক বিদ্যালয়। দেড়শ বছরেরও বেশি সময় ধরে এ অঞ্চলে শিক্ষার আলো ছড়িয়ে আসা প্রতিষ্ঠানটির বর্তমান চিত্র উদ্বেগজনক। ১৯৮১ সালে নির্মিত বিদ্যালয়ের দ্বিতল একটি ভবন দীর্ঘদিন ধরে ঝুঁকিপূর্ণ হয়ে পড়ে আছে। ছাদ ও দেয়ালে ফাটল, ছাদের বিভিন্ন অংশ নষ্ট এবং বৃষ্টির পানি চুইয়ে পড়ায় ভবনটির আটটি শ্রেণিকক্ষে গত দুই বছর ধরে পাঠদান বন্ধ। শ্রেণিকক্ষ সংকটে অনেক সময় শিক্ষার্থীদের পাঠ নিতে হচ্ছে খোলা আকাশের নিচে।
বিদ্যালয় কর্তৃপক্ষ সূত্রে জানা যায়, ১৮৬৯ সালে প্রতিষ্ঠিত খালিশপুর বহুমুখী মাধ্যমিক বিদ্যালয়টি মহেশপুরের অন্যতম পুরোনো শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান। বিদ্যালয়ের নিজস্ব অর্থায়নে ১৯৮১ সালে দ্বিতল ভবনটি নির্মাণ করা হয়। সময়ের ব্যবধানে ভবনটির বিভিন্ন অংশ ক্ষতিগ্রস্ত হয়ে বর্তমানে ঝুঁকিপূর্ণ অবস্থায় রয়েছে। ভবনটির ছাদ ও দেয়ালের বিভিন্ন স্থানে ফাটল দেখা দিয়েছে। ছাদের কিছু অংশ নষ্ট হয়ে যাওয়ায় সামান্য বৃষ্টি হলেই শ্রেণিকক্ষের ভেতরে পানি পড়ে। মেঝেতে পানি জমে থাকায় সৃষ্টি হয় স্যাঁতসেঁতে ও দুর্গন্ধযুক্ত পরিবেশ। শিক্ষার্থীদের নিরাপত্তার কথা বিবেচনা করে ভবনটি ব্যবহার বন্ধ রাখা হয়েছে।
বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক মোজাম্মেল হক জানান, ঝুঁকিপূর্ণ ভবনটির আটটি শ্রেণিকক্ষে পাঠদান বন্ধ রয়েছে। বিষয়টি ম্যানেজিং কমিটি, উপজেলা ও জেলা প্রশাসন এবং শিক্ষা বিভাগের সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তাদের জানানো হয়েছে। ভবনটি অপসারণের জন্যও সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষকে অবহিত করা হয়েছে। তবে এখনো কার্যকর কোনো ব্যবস্থা নেওয়া হয়নি।
বর্তমানে বিদ্যালয়ে ষষ্ঠ থেকে দশম শ্রেণি পর্যন্ত ১ হাজার ২৩৪ জন শিক্ষার্থী পড়াশোনা করছে। রয়েছে ১৫টি সেকশন ও দুটি ভোকেশনাল সেকশন। বিদ্যালয়ে মোট ১৯টি শ্রেণিকক্ষ থাকলেও ঝুঁকিপূর্ণ ভবনের আটটি কক্ষ বন্ধ থাকায় স্বাভাবিক পাঠদান ব্যাহত হচ্ছে।
প্রধান শিক্ষক বলেন, সেকশন বিভাজনের কারণে বিদ্যমান শ্রেণিকক্ষ দিয়ে সব শিক্ষার্থীর পাঠদান সম্ভব হচ্ছে না। ফলে কখনো কখনো খোলা জায়গায় ক্লাস নিতে হচ্ছে। এতে শিক্ষার্থীদের পাঠদান যেমন ব্যাহত হচ্ছে, তেমনি প্রতিকূল আবহাওয়ায় তাদের ভোগান্তিও বাড়ছে।
তিনি বলেন, ‘ভবনটির ছাদ ও দেয়ালের বিভিন্ন স্থানে ফাটল রয়েছে। সামান্য বৃষ্টি হলেই ছাদ চুইয়ে পানি পড়ে। দীর্ঘ সময় পানি জমে থাকায় ভবনের বিভিন্ন অংশ স্যাঁতসেঁতে হয়ে গেছে।’
১৮৬৯ সালে প্রতিষ্ঠিত এ বিদ্যালয়টি শুধু একটি শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান নয়, স্থানীয় মানুষের কাছে দীর্ঘদিনের একটি শিক্ষার কেন্দ্র। বিদ্যালয়ের সাবেক শিক্ষার্থীদের অনেকে দেশের বিভিন্ন গুরুত্বপূর্ণ প্রতিষ্ঠানে চাকরি ও নানা পেশায় দায়িত্ব পালন করছেন।
প্রধান শিক্ষক মোজাম্মেল হক বলেন, ‘আমাদের বিদ্যালয়ের দীর্ঘ ইতিহাস রয়েছে। এখান থেকে বহু শিক্ষার্থী লেখাপড়া শেষ করে দেশের বিভিন্ন ক্ষেত্রে প্রতিষ্ঠিত হয়েছেন। কিন্তু বর্তমানে শ্রেণিকক্ষের সংকটের কারণে শিক্ষার্থীদের স্বাভাবিক পাঠদান নিশ্চিত করা কঠিন হয়ে পড়েছে।’
বিদ্যালয় কর্তৃপক্ষের দাবি, সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষ সরেজমিনে পরিদর্শন করে ভবনটির বর্তমান অবস্থা মূল্যায়ন করলে ঝুঁকির বিষয়টি স্পষ্ট হবে। দ্রুত ঝুঁকিপূর্ণ ভবনটি অপসারণ করে সেখানে নতুন শ্রেণিকক্ষ নির্মাণ করা প্রয়োজন।
প্রধান শিক্ষক বলেন, ‘শিক্ষার্থী, শিক্ষক ও অভিভাবকদের নিরাপত্তার বিষয়টি সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ। দ্রুত ভবনটি অপসারণ করে নতুন শ্রেণিকক্ষ নির্মাণ করা না হলে শ্রেণিকক্ষ সংকট আরও বাড়বে।’
দেড়শ বছরের বেশি সময় ধরে শিক্ষার আলো ছড়ানো খালিশপুর বহুমুখী মাধ্যমিক বিদ্যালয়ের শিক্ষার্থীদের এখন তাই নিরাপদ শ্রেণিকক্ষের অপেক্ষা। ঐতিহ্যের ভার বহন করা প্রতিষ্ঠানটির সামনে বড় প্রশ্ন—কবে ফিরবে স্বাভাবিক পাঠদানের পরিবেশ?


























