শনিবার ১৪ মার্চ ২০২৬

২৯ ফাল্গুন ১৪৩২ বঙ্গাব্দ

ভোটের কালি মোছার আগেই প্রতিশ্রুতি বাস্তবায়ন শুরু করেছি: প্রধানমন্ত্রী

রানার প্র‌তি‌বেদক

প্রকাশিত: ১৩:৪৮, ১৪ মার্চ ২০২৬

আপডেট: ১৩:৪৯, ১৪ মার্চ ২০২৬

ভোটের কালি মোছার আগেই প্রতিশ্রুতি বাস্তবায়ন শুরু করেছি: প্রধানমন্ত্রী

প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান বলেছেন, ভোটের কালি মুছে যাওয়ার আগেই নির্বাচনি প্রতিশ্রুতি বাস্তবায়নে কাজ শুরু করেছে সরকার।

শনিবার (১৪ মার্চ) রাজধানীর ওসমানী স্মৃতি মিলনায়তনে ইমাম, মুয়াজ্জিন, খাদেম ও অন্যান্য ধর্মীয় নেতাদের মাসিক সম্মানী কার্যক্রমের উদ্বোধন অনুষ্ঠানে তিনি এ কথা বলেন।

প্রধানমন্ত্রী বলেন, ভোটের কালি নখ থেকে মোছার আগেই বিএনপি সরকার সকল প্রতিশ্রুতি বাস্তবায়নের কাজ শুরু করেছে। এর আগে চালু করা হয়েছে ফ্যামিলি কার্ড, পহেলা বৈশাখ থেকে চালু হবে কৃষক কার্ড। আগামী ১৬ মার্চ দিনাজপুরে শুরু হবে খাল খনন কর্মসূচি।

মহান আল্লাহর দরবারে শুকরিয়া জানিয়ে তারেক রহমান বলেন, আজ থেকে চালু হলো খতিব, ইমাম, মুয়াজ্জিন এবং অন্য ধর্মের ধর্মীয় গুরুদের জন্য আর্থিক সহায়তা কর্মসূচি; যাদের প্রয়োজন তাদের প্রত্যেককে পর্যায়ক্রমে এই সহায়তা দেওয়া হবে।

তিনি বলেন, দেশের প্রতিটি নাগরিকের রাজনৈতিক এবং অর্থনৈতিক ক্ষমতায়ন নিশ্চিত করার মাধ্যমে আমরা আমাদের দেশকে একটি শক্তিশালী ভিত্তির ওপরে প্রতিষ্ঠিত করতে চাই। আর কোনো ফ্যাসিবাদ কিংবা তাদের তাঁবেদার অপশক্তি মানুষের স্বাধীনতা কেড়ে নিতে না পারে, কথা বলার অধিকার কেড়ে নিতে না পারে।

প্রধানমন্ত্রী বলেন, ধর্মীয় নেতারা সমাজে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করেন। মানুষের কঠিন সময়ে তারা নৈতিক দিকনির্দেশনা দেন এবং সমাজে নৈতিকতা ও মানবিক মূল্যবোধ জাগ্রত রাখতে সহায়তা করেন। তাই ইমাম, খতিব, মুয়াজ্জিনসহ অন্যান্য ধর্মের ধর্মীয় নেতাদের জন্য সম্মানী ভাতা চালু করা হয়েছে, যা পর্যায়ক্রমে দেশের সব ধর্মীয় প্রতিষ্ঠানের সংশ্লিষ্টদের মধ্যে বিস্তৃত করা হবে।

সরকারপ্রধান বলেন, দেশের প্রায় সাড়ে তিন লাখ মসজিদকে ধর্মীয়, সামাজিক ও নৈতিক শিক্ষা কার্যক্রমের কেন্দ্রবিন্দুতে পরিণত করা যেতে পারে। এ ক্ষেত্রে ধর্মীয় নেতাদের ভূমিকা অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। পাশাপাশি অন্যান্য ধর্মের উপাসনালয়েও নৈতিক ও মানবিক মূল্যবোধের শিক্ষা সমাজে ইতিবাচক প্রভাব ফেলতে পারে।

তিনি আরও জানান, এই কর্মসূচির প্রথম ধাপে পাইলট প্রকল্পের আওতায় ৪ হাজার ৯০৮টি মসজিদ, ৯৯০টি মন্দির এবং ১৪৪টি বৌদ্ধ বিহারের মোট ১৬ হাজার ৯৯২ জন ধর্মীয় নেতা মাসিক সম্মানী পাচ্ছেন। পর্যায়ক্রমে দেশের সব ধর্মীয় প্রতিষ্ঠানের সংশ্লিষ্টদের এই কর্মসূচির আওতায় আনা হবে।

তারেক রহমান বলেন, রাষ্ট্রের উন্নয়নের জন্য নাগরিকদের রাজনৈতিক ও অর্থনৈতিক ক্ষমতায়ন জরুরি। নাগরিকদের দুর্বল রেখে কোনো রাষ্ট্র শক্তিশালী হতে পারে না। তাই সব ধর্ম, বর্ণ ও পেশার মানুষের আর্থিক ও সামাজিক নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে সরকার রাষ্ট্রীয় সামর্থ্যের সর্বোচ্চ ব্যবহার করবে।

তিনি ধর্মীয় নেতাদের উদ্দেশে আহ্বান জানান, ধর্মীয় দায়িত্ব পালনের পাশাপাশি সমাজের কল্যাণে বিভিন্ন সামাজিক ও অর্থনৈতিক কর্মকাণ্ডেও সক্রিয় ভূমিকা রাখতে। প্রয়োজনে সরকার এসব উদ্যোগ বাস্তবায়নে সহযোগিতা করবে।

প্রধানমন্ত্রী বলেন, বাংলাদেশের ঐতিহ্য হচ্ছে সাম্প্রদায়িক সম্প্রীতি। মুসলমান, হিন্দু, বৌদ্ধ, খ্রিষ্টানসহ সব ধর্মের মানুষ একসঙ্গে শান্তিপূর্ণভাবে বসবাস করে আসছে। কেউ যেন এই সম্প্রীতির বন্ধন নষ্ট করতে না পারে সে বিষয়ে সবাইকে সতর্ক থাকার আহ্বান জানান তিনি।

একই সঙ্গে তিনি জানান, প্রতিটি জেলার আইনশৃঙ্খলা বিষয়ক বৈঠকে একজন ইমাম, খতিব বা ধর্মীয় প্রতিনিধিকে অন্তর্ভুক্ত করার উদ্যোগ নেওয়া হবে।

প্রধানমন্ত্রী আশা প্রকাশ করেন, সম্মিলিত প্রচেষ্টায় আগামী দশ বছরের মধ্যে বাংলাদেশ রাজনৈতিক ও অর্থনৈতিকভাবে আরও স্বনির্ভর রাষ্ট্রে পরিণত হবে।

শেয়ার করুনঃ

সর্বশেষ

শীর্ষ সংবাদ: