প্রশাসনের নির্দেশের পরও পানি অপসারণ না করায় অনাবাদি পড়ে রয়েছে যশোরের কেশবপুর উপজেলার মাগুরাডাঙ্গা বিলের প্রায় ২০০ বিঘা জমি। জলাবদ্ধতার কারণে চলতি মৌসুমে বিলের জমিতে বোরো আবাদ করতে পারেননি কৃষকেরা। ঘের মালিক আসাদুজ্জামান আসাদের অতি মুনাফার লোভে আবাদ ব্যাহত হওয়া ছাড়াও ঝুঁকির মুখে পড়েছে এলাকার রাস্তাঘাট। এতে মাগুরাডাঙ্গা ও বালিয়াডাঙ্গাসহ ৫টি গ্রামের শতশত পরিবার ক্ষতির শিকার হচ্ছেন।
স্থানীয়রা জানায়, চলতি বছরে বোরো আবাদের মৌসুম শুরু হলে উপজেলা প্রশাসন তিন-চার দিন ধরে মাইকিং করে সেচ পাম্পের মাধ্যমে পানি অপসারণের মাধ্যমে বিলের জমি আবাদযোগ্য করে দেওয়ার জন্য ঘের মালিকদের নির্দেশন দেয়। কিন্তু ঘের মালিক আসাদ মাগুরাডাঙ্গা বিলের ‘মেঝ ঘেরের’ পানি সেচের মাধ্যমে অপসারণ না করে উলটো মাগুরাডাঙ্গা ‘বড় ঘেরের’ পানি সেচের মাধ্যমে এই বিলে ফেলেছেন। ফলে বিলটি কানায় কানায় পানিতে পরিপূর্ণ হয়ে উঠেছে। এতে ওই বিলে বোরোর আবাদ করতে না পেরে শতশত কৃষক ক্ষতির মুখে পড়েছেন।
স্থানীয় প্রশাসনের নির্দেশ অমান্য ও কৃষকদের দাবি না মেনে ঘের মালিক আসাদ বিলটিতে সারা বছর জুড়ে মাছ চাষ করবেন বলে ধারণা করছেন স্থানীয়রা। উপজেলা কৃষি অফিস ও কৃষকেরা জানান, মাগুরাডাঙ্গা বিলের বড় বিলে জমি রয়েছে প্রায় ৪০০ বিঘা। মেঝ বিলে বোরো আবাদের ক্ষেত রয়েছে প্রায় ২০০ বিঘা। বেশ কয়েক বছর ধরে ওই দুইটি বিলে মাছের ঘের করছেন আসাদুজ্জামান আসাদ। ওই এলাকার কৃষকদের সাথে চুক্তি অনুযায়ী, প্রতি বছর বোরো আবাদ মৌসুমের আগে পাম্প দিয়ে ঘেরের পানি অপসারণ করে আবাদযোগ্য করে দেওয়ার কথা। কিন্তু, কৃষকদের সাথে করা চুক্তি ভেঙে এ বছর ঘেরের পানি নিস্কাসন না করায় মাগুরাডাঙ্গা মেঝ বিলের ২০০ বিঘা জমিতে বোরোর আবাদ হচ্ছে না। এ ছাড়া বিলটি কানায় কানায় পূর্ণ থাকায় রাস্তাঘাট ক্ষতিগ্রস্ত হওয়ার ঝুঁকিতে রয়েছে। এমনকি বন্যার ঝুঁকিতে পড়েছে মাগুরাডাঙ্গা, বালিয়াডাঙ্গা, সুজাপুর, বাকাবর্শি ও খতিয়াখালীসহ ৫টি গ্রামের শতশত পরিবার। তারপরও সেচের মাধ্যমে বড়ো বিলের পানি এই বিলে আনা চলছে। সোমবার পর্যন্ত এটি অব্যাহত ছিল। স্থানীয়রা বলছেন, এর ফলে আগাম বর্ষা হলে তলিয়ে যাবে এলাকার গ্রামগুলো। ক্ষতিগ্রস্ত হবে রাস্তাঘাট।
মাগুরাডাঙ্গা গ্রামের কৃষক সুনীল দাস ও আকবার হোসেন বলেন, ঘের মালিক আসাদের কারণে এ বছর মাগুরাডাঙ্গা মেঝ বিলে বোরোর আবাদ হচ্ছে না। এ ছাড়াও ঝুঁকির মধ্যে পড়েছে রাস্তাঘাট।
এ ব্যাপারে বক্তব্য জানতে ঘের মালিক আসাদুজ্জামন আসাদের সাথে যোগাযোগের চেষ্টা করা হলেও তাকে পাওয়া যায়নি।
উপজেলার কৃষি কর্মকর্তা আব্দুল্যাহ আল মামুন বলেন, ঘের মালিক আসাদ মাগুরাডাঙ্গা বিলের পানি সেচ না দেওয়ায় ওই বিলে প্রায় ২০০ বিঘা জমিতে এ বছর বোরো আবাদ হচ্ছেনা। এ ব্যাপারে উপজেলা প্রশাসনকে অবহিত করা হয়েছে। ঘের মালিকের বিরুদ্ধে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেয়া হবে।
উপজেলা মৎস্য মৎস্য কর্মকর্তা সুদীপ বিশ্বাস বলেন, ঘের মালিক আসাদকে নির্দিষ্ট সময়ের মধ্যে ঘেরের পানি সেচ দেওয়ার জন্য সময়সীমা বেঁধে দেওয়ার পরও ওই বিলের পানি সেচ না দেওয়ায় তার বিরুদ্ধে ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে।


























