ঢাকা-খুলনা মহাসড়কের ফরিদপুরের মধুখালী ও কানাইপুর এলাকায় পৃথক দুটি সড়ক দুর্ঘটনায় পাঁচজন নিহত হয়েছেন। শুক্রবার দুপুরে কয়েক মিনিটের ব্যবধানে ঘটে যাওয়া এসব দুর্ঘটনায় আহত হয়েছেন অন্তত সাতজন। নিহতদের মধ্যে অ্যাম্বুলেন্সের তিন যাত্রী এবং এক নারী ও তাঁর সাত বছরের ছেলে রয়েছেন। প্রথম দুর্ঘটনাটি ঘটে দুপুর আড়াইটার দিকে মধুখালী উপজেলার আড়কান্দি এলাকায়। সেখানে মাগুরাগামী একটি অ্যাম্বুলেন্সের সঙ্গে বিপরীত দিক থেকে আসা কিং ফিশার নামের একটি লোকাল বাসের মুখোমুখি সংঘর্ষ হয়। এতে অ্যাম্বুলেন্সের তিন যাত্রী ঘটনাস্থলেই নিহত হন। আহত হন আরও চারজন।
মধুখালী ফায়ার সার্ভিসের স্টেশন কর্মকর্তা শামীম রেজা জানান, দুর্ঘটনার খবর পেয়ে পুলিশ ও ফায়ার সার্ভিসের সদস্যরা ঘটনাস্থলে গিয়ে উদ্ধার অভিযান চালান। আহতদের উদ্ধার করে চিকিৎসার জন্য পাঠানো হয়।
এর প্রায় এক ঘণ্টা পর বিকেল সাড়ে ৩টার দিকে ফরিদপুরের কানাইপুরে ঢাকা-খুলনা মহাসড়কের তেঁতুলতলা এলাকায় ঘটে দ্বিতীয় দুর্ঘটনা। সেখানে নিয়ন্ত্রণ হারিয়ে একটি বালুবোঝাই ট্রাক উল্টে প্রাইভেটকারের ওপর পড়ে। এতে প্রাইভেটকারে থাকা সুমি বেগম (৩২) ও তাঁর ছেলে শাওন (৭) নিহত হন। এ ঘটনায় আরও তিনজন আহত হয়েছেন।
নিহত সুমি বেগম চাঁপাইনবাবগঞ্জ জেলার পলাশ মিয়ার স্ত্রী। জানা গেছে, পরিবারের সদস্যদের নিয়ে তাঁরা মাগুরার মহম্মদপুরে বাবার বাড়ি থেকে প্রাইভেটকারে ঢাকার দিকে যাচ্ছিলেন। পথে বিপরীত দিক থেকে আসা বালুবোঝাই ট্রাকটি নিয়ন্ত্রণ হারিয়ে তাঁদের গাড়ির ওপর উল্টে পড়ে।
দুর্ঘটনার পর স্থানীয় লোকজন প্রাইভেটকারের যাত্রীদের উদ্ধার করে হাসপাতালে নিয়ে যান। সেখানে চিকিৎসাধীন অবস্থায় সুমি ও তাঁর ছেলের মৃত্যু হয়। আহত তিনজনকে ফরিদপুর মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে ভর্তি করা হয়েছে। ট্রাকের বালুর নিচে প্রাইভেটকারের একজন যাত্রী আটকা পড়েছিলেন। প্রায় এক ঘণ্টার চেষ্টায় তাঁকে উদ্ধার করা হয়।
ফরিদপুর ফায়ার সার্ভিসের সিনিয়র স্টেশন কর্মকর্তা শ্রীবাস বাড়ৈ দুর্ঘটনার তথ্য নিশ্চিত করে জানান, প্রাথমিকভাবে ট্রাকটি নিয়ন্ত্রণ হারানোর কারণে দুর্ঘটনা ঘটেছে বলে ধারণা করা হচ্ছে। এতে প্রাইভেটকারের পাশাপাশি একটি অটোরিকশাও ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে।
করিমপুর হাইওয়ে পুলিশের উপপরিদর্শক (এসআই) আতিকুল ইসলাম জানান, দুর্ঘটনাকবলিত গাড়ি দুটি হাইওয়ে থানায় নেওয়া হয়েছে। এ ঘটনায় আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হচ্ছে।


























