খুলনার কয়রায় সরকারি জমি দখল ও কলাগাছ কাটাকে কেন্দ্র করে সংঘর্ষে গুরুতর আহত পল্লী চিকিৎসক গোলাম রব্বানীর (৫২) মৃত্যুর ঘটনায় জড়িতদের দৃষ্টান্তমূলক শাস্তির দাবিতে মানববন্ধন করেছেন স্বজন ও স্থানীয় বাসিন্দারা।
শুক্রবার সকাল ১০টার দিকে উপজেলার মহারাজপুর ইউনিয়নের রাজ্জাক চেয়ারম্যানের মোড়ে এ মানববন্ধন অনুষ্ঠিত হয়। এর আগে পারিবারিক কবরস্থানে গোলাম রব্বানীকে দাফন করা হয়।
মানববন্ধনে বক্তব্য দেন খুলনা জেলা বিএনপির সদস্য এম এ হাসান ও মনিরুজ্জামান বেল্টু, কয়রা উপজেলা প্রেসক্লাবের সভাপতি শরিফুল আলম, উপজেলা স্বেচ্ছাসেবক দলের আহ্বায়ক ও ইউপি সদস্য নুরুল ইসলাম খোকা, উপকূল ও সুন্দরবন সংরক্ষণ আন্দোলনের সভাপতি এম আনোয়ার হোসেন এবং নিহতের মেয়ে বৈশাখী ও ছেলে বিল্লাল হোসেনসহ অন্যরা।
বক্তারা বলেন, জমি নিয়ে বিরোধের জেরে একজন মানুষের প্রাণহানির ঘটনা অত্যন্ত মর্মান্তিক। তাঁরা ঘটনার নিরপেক্ষ তদন্ত, সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিদের ভূমিকা যাচাই এবং প্রকৃত দায়ীদের আইনের আওতায় এনে দৃষ্টান্তমূলক শাস্তির দাবি জানান। একই সঙ্গে নিরপরাধ কেউ যেন হয়রানির শিকার না হন, তা নিশ্চিত করার আহ্বান জানান তাঁরা।
স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, গত ১৯ অক্টোবর সকাল ৯টার দিকে কয়রা উপজেলার পশ্চিম মঠবাড়ি গ্রামে ১৩ শতক সরকারি জমির দখল ও কলাগাছ কাটাকে কেন্দ্র করে গোলাম রব্বানী এবং তাঁর চাচাতো ভাই সিদ্দিক সরদারের (২৬) পক্ষের লোকজনের মধ্যে সংঘর্ষ হয়। এতে গোলাম রব্বানীসহ চারজন গুরুতর আহত হন।
আহত অন্যরা হলেন গোলাম রব্বানীর ছেলে বিল্লাল সরদার (১৭), স্ত্রী নাজমা খাতুন (৩৮) ও মা রাহিলা বেগম (৫৫)। প্রথমে তাঁদের কয়রা উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে নেওয়া হয়। পরে অবস্থার অবনতি হলে খুলনা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে স্থানান্তর করা হয়। গোলাম রব্বানীর অবস্থা আশঙ্কাজনক হওয়ায় তাঁকে ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে নেওয়া হয়। সেখানে চিকিৎসাধীন অবস্থায় গত বুধবার বিকেলে তাঁর মৃত্যু হয়।
কয়রা থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) রাশেদুল আলম বলেন, এ ঘটনায় ভুক্তভোগী পরিবারের পক্ষ থেকে এখনো কোনো মামলা করা হয়নি। তবে ঘটনার সঙ্গে জড়িত থাকার অভিযোগে আজমিরা খাতুন (১৮) ও তাসলিমা বেগম (৩৫) নামের দুই নারীকে আটক করা হয়েছে।
গোলাম রব্বানীর মৃত্যুকে কেন্দ্র করে এলাকায় শোক ও ক্ষোভ বিরাজ করছে। মানববন্ধন থেকে ঘটনার সুষ্ঠু তদন্ত এবং আইনানুগ বিচারের মাধ্যমে দায়ীদের শাস্তি নিশ্চিত করার দাবি জানানো হয়েছে।


























