খুলনা শিপইয়ার্ড সড়ক প্রশস্তকরণ ও উন্নয়ন প্রকল্পে অনিয়ম ও দুর্নীতির অভিযোগে খুলনা উন্নয়ন কর্তৃপক্ষের (কেডিএ) প্রধান প্রকৌশলী (চলতি দায়িত্ব) কাজী সাবিরুল আলমসহ আটজনের বিরুদ্ধে মামলা করেছে দুর্নীতি দমন কমিশন (দুদক)। অনুমোদিত পরিকল্পনা অনুযায়ী সড়ক নির্মাণ না করে সরকারের কয়েক কোটি টাকা আত্মসাতের অভিযোগ আনা হয়েছে তাঁদের বিরুদ্ধে।
বৃহস্পতিবার দুদকের জনসংযোগ দপ্তর মামলার বিষয়টি জানায়। এর আগে গত সোমবার কমিশন থেকে মামলা করার অনুমোদন দেওয়া হয়।
মামলার আসামিদের মধ্যে সরকারি কর্মকর্তা এবং প্রকল্পের সঙ্গে যুক্ত ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠানের কর্মকর্তারা রয়েছেন। তাঁরা হলেন—আতাউর রহমান খান লিমিটেডের চেয়ারম্যান ও প্রকল্পের লিড পার্টনার আতাউর রহমান, মাহবুব ব্রাদার্স লিমিটেডের ব্যবস্থাপনা পরিচালক ও প্রকল্পের পার্টনার শেখ মাহাবুব রহমান, কেডিএর সাবেক তত্ত্বাবধায়ক প্রকৌশলী শামীম জেহাদ, নির্বাহী প্রকৌশলী (প্রকল্প) আরমান হোসেন, নির্বাহী প্রকৌশলী (চলতি দায়িত্ব) মুনতাসির মামুন, সহকারী প্রকৌশলী বাসুদেব কুমার বিশ্বাস এবং উপসহকারী প্রকৌশলী শরীফ ওয়াহিদুজ্জামান।
অনুমোদিত পরিকল্পনা অনুসরণ না করার অভিযোগ
দুদকের এজাহারে বলা হয়েছে, খুলনা শিপইয়ার্ড সড়ক প্রশস্তকরণ ও উন্নয়ন প্রকল্প বাস্তবায়নের কার্যাদেশ দেওয়া হয়েছিল ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠান মাহবুব ব্রাদার্স লিমিটেডকে। কিন্তু অনুমোদিত পরিকল্পনা অনুযায়ী সড়ক নির্মাণ না করে সরকারের কয়েক কোটি টাকা আত্মসাৎ করা হয়েছে বলে অভিযোগ আনা হয়েছে।
এ ঘটনায় আসামিদের বিরুদ্ধে দণ্ডবিধি ও দুর্নীতি প্রতিরোধ আইনের সংশ্লিষ্ট ধারায় মামলা করা হয়েছে। তবে মামলার অভিযোগ আদালতে প্রমাণিত না হওয়া পর্যন্ত আসামিদের অপরাধী হিসেবে বিবেচনার সুযোগ নেই।
১৩ বছরের বিলম্বে প্রধানমন্ত্রীর ক্ষোভ
খুলনা শিপইয়ার্ড সড়ক নির্মাণকাজে দীর্ঘ ১৩ বছরের অস্বাভাবিক বিলম্ব নিয়েও সম্প্রতি ক্ষোভ প্রকাশ করেন প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান। সংশ্লিষ্ট এক বৈঠকে তিনি প্রকল্পের সঙ্গে যুক্ত কর্মকর্তাদের বিরুদ্ধে বিভাগীয় ও শাস্তিমূলক ব্যবস্থা নেওয়ার নির্দেশ দেন।
দীর্ঘ সময়েও গুরুত্বপূর্ণ এই সড়ক প্রকল্পের কাজ শেষ না হওয়া এবং অনিয়মের অভিযোগ ওঠায় প্রকল্পটির বাস্তবায়ন, তদারকি ও ব্যয়ের স্বচ্ছতা নিয়ে প্রশ্ন তৈরি হয়েছে।


























