সমাজে পিছিয়ে পড়া খেটে খাওয়া মেহনতি মানুষের জীবনসংগ্রাম ও তাঁদের অবদানের কথা ক্যানভাসে ফুটিয়ে তুলেছেন তরুণ চিত্রশিল্পী মুরারি মুরলী মোহন। ‘রিয়েল আর্টিস্ট অব সোসাইটি’ শিরোনামে তাঁর প্রথম একক এই চিত্রপ্রদর্শনী শুক্রবার (৩০ অক্টোবর) বিকেলে শুরু হয়েছে।
যশোর ইনস্টিটিউট পাবলিক লাইব্রেরি পাঠকক্ষে পাঁচ দিনব্যাপী এ প্রদর্শনীর আনুষ্ঠানিক উদ্বোধন করেন বিশিষ্ট ভাস্কর মাহবুব জামাল শামীম ও জনপ্রিয় তরুণ চিত্রশিল্পী সোহাগ পারভেজ।প্রদর্শনীতে মোট ৪০টি শিল্পকর্ম স্থান পেয়েছে। রং-তুলির আঁচড়ে ফুটিয়ে তোলা হয়েছে কামার, কুমার, তাঁতি ও কৃষকসহ হারিয়ে যেতে বসা বিভিন্ন পেশাজীবী মানুষের দৈনন্দিন জীবনের আবেগ ও লড়াইয়ের গল্প।
উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে শিল্পী মুরারি মুরলী মোহন তাঁর শিল্পকর্মের পেছনের ভাবনা তুলে ধরে বলেন, ‘গ্রামে বেড়ে ওঠার সুবাদে শৈশব থেকেই শ্রমজীবী মানুষের কষ্ট খুব কাছ থেকে দেখেছি। প্রচলিত বিশ্বাস অনুযায়ী কঠোর পরিশ্রমের ফল একসময় পাওয়া যায়, কিন্তু এই মানুষগুলোর বেলায় চিত্রটি ভিন্ন। তারা প্রাপ্য সম্মান ও অধিকার থেকে বরাবরই বঞ্চিত।’
কথাশিল্পী মানিক বন্দ্যোপাধ্যায়ের বিখ্যাত উক্তির প্রতিধ্বনি করে শিল্পী আরও বলেন, ‘ঈশ্বর যেন কেবল ভদ্রপল্লীতেই বাস করেন; খেটে খাওয়া এসব মানুষের জন্য যেন সৃষ্টিকর্তার দরজাও বন্ধ। অথচ এই মেহনতি মানুষগুলো যদি একদিন কাজ কিংবা খাদ্য উৎপাদন বন্ধ করে দেন, তবে থমকে যাবে পুরো মানবসভ্যতা। যে পেশাজীবী মানুষগুলো সভ্যতার ভিত্তি গড়ে তুলছেন, আমার চোখে তারাই প্রকৃত শিল্পী। তাঁদের বাঁচিয়ে রাখার তাগিদ থেকেই এই প্রয়াস।’
আগামী ৩ নভেম্বর পর্যন্ত প্রতিদিন বিকেল ৪টা থেকে রাত ৯টা পর্যন্ত প্রদর্শনীটি সর্বসাধারণের জন্য উন্মুক্ত থাকবে। প্রতিদিন বিকেলে বিভিন্ন শ্রেণি-পেশার মানুষ চিত্র দেখতে প্রদর্শনী কক্ষে ভিড় জমাচ্ছেন। এছাড়া ঢাকা থেকে আসা জনপ্রিয় তরুণ চিত্রশিল্পী সোহাগ পারভেজের কাছ থেকে চিত্র এঁকে নিতেও দর্শনার্থীদের মাঝে ব্যাপক আগ্রহ দেখা গেছে; তিনি অনেকের খাতায় নিজের হাতে চিত্র এঁকে দেন। তরুণ চিত্রশিল্পী মুরারি মুরলী মোহনের এই ব্যতিক্রমী প্রদর্শনীটি শিল্পসচেতন মহলে দারুণ সাড়া ফেলেছে।


























